পবিত্রমোহন বিশ্বাসঃ মঙ্গলবার।স্হান ডায়মন্ড হারবারের সরিষা। উপলক্ষ বই প্রকাশ অনুষ্ঠান।হাজির তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়,সুব্রত বক্সি সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্ব।
প্রকাশ্য মঞ্চে পার্থবাবু ঘোষণা করেন তৃণমূলের পরবর্তী মুখ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।মানে অভিষেকই রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী! নিঃশব্দ বিপ্লব। কিন্তু,আর নিঃশব্দ রইল না। কেন এই ঘোষণা?কারন জাতীয় স্তরে নেতৃত্বে থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর রাজ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!
তৃণমূলের একাংশ ধরেই নিয়েছেন মমতা দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী!
অনেকেই বলেন তৃণমূল কোন রাজনৈতিক দল নয়, একটি প্রাইভেট কোম্পানি। পার্থর ঘোষণায় সেই প্রশ্ন আরও একবার সামনে এল।একটি রাজনৈতিক দলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন সেটা কি এই ভাবে ঠিক হয়?আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পার্থের মুখ দিয়ে এই মনোবাসনা জানিয়ে রাখলেন।
মনে করুন প্রয়াত জননেতা জ্যোতি বসু অথবা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। তাঁরা ভুলেও এই পথ মাড়াননি।কারন এই ভাবে ওসব হয় না।
ভবিষ্যতের নেতা তৈরি হয় লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।নানা গন আন্দোলনের মধ্য দিয়েই নেতা উঠে আসে। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের বেলায় এই কথাই প্রযোজ্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস রয়েছে। সেখানে তাঁকে কুর্নিশ করতেই হয়। কিন্তু, অভিষেক তাঁর কি কোন লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস আছে? এখন তৃণমূলের জোয়ার চলছে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাকেই প্রার্থী করবেন সেই জিতে আসবে। কলাগাছকে প্রার্থী করা হলেও কলাগাছই জিতবে!
অভিষেকের সাংসদ হওয়ার পিছনে যাবতীয় কৃতিত্ব তাঁর পিশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বয়স, অভিজ্ঞতা, ধারে ভারে সবেতেই অভিষেক তরুণ।যদি ধরেও নেওয়া হয় আগামী কাল অভিষেক মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। তাহলে বলি উনি সামলাতে পারবেন না।কারন অভিষেকের সেই যোগ্যতা নেই। শুধু যুবরাজ কেন তৃণমূলের প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে একমাত্র শুভেন্দু অধিকারীই মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য। মুখ্যমন্ত্রীকে বাদ দিলে বা মুখ্যমন্ত্রীকে এড়িয়ে শুভেন্দু জিতে আসতে পারবে। শুভেন্দুর ডাকে লোক জড় হয় । তাঁরও একটা জনভিত্তি আছে।এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে সত্যিই কি এর বাইরে তৃণমূলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য কেউ নেই? উত্তর হলো আছে।যেমন সৌগত রায়। কিন্তু,সম্ভবত তৃণমূলের লোকজনই সৌগত বাবুকে ভুলে গেছেন! কোথায়ও তাঁর উপস্থিত পাওয়া যায় না। পড়াশোনা করা এই প্রাক্তন অধ্যাপক তৃণমূলেই ব্রাত্য।
পার্থবাবুও যোগ্য নন। উনি শিক্ষা দপ্তর সামলাতে পারেন না।রোজ অশান্তি লেগেই আছে। কিছু হলেই প্রেক্ষিত খোঁজেন!
সত্যিই যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রজেক্ট করত হয় তা হলে অবিলম্বে উপ মুখ্যমন্ত্রী পদ সৃষ্টি করে অভিষেকের অভিষেক করা হোক।যেমন জ্যোতি বসুর আমলে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে করা হয়েছিল। এখন যদি অভিষেককে উপ মুখ্যমন্ত্রী করা হয়,তাহলে বাকি সময়ের মধ্যে অনেকটাই আয়ত্বের মধ্যে চলে আসবে।না হলে মাঝ সমুদ্রে নেমে খাবি খেতে হবে।

No comments:
Post a Comment