ধর্মের নামে খুনি রাজা ! ভয়ে গৃহবন্দি এলাকাবাসী - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 27 June 2018

ধর্মের নামে খুনি রাজা ! ভয়ে গৃহবন্দি এলাকাবাসী



মৃন্ময় নস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: প্রতিদিন সাম্রাজ্য বিস্তার করে চলেছেন তিনি। আর এই সাম্রাজ্য বিস্তার করতে কখনো তছনছ করছে গাছের বাগান, তো কখনো ধানের খেত,।আর তাতে বাধা আসলে নিজের ক্ষমতায় তাকে পরাজয় করে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছেন মাটিতে।তার এই মারণ আঘাতে ইতিমধ্যে প্রান হারিয়েছেন দুই জন।আহত প্রায় এক ডজন। আহতরা এখনো চিকিৎসাধীন।খুনি রাজার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন এলাকাবাসী। এলাকার মানুষ এক হয়ে তাই প্রতিবাদ জানিয়েছেন এই খুনি রাজার বিরুদ্ধে। তাতে অবশ্য কোনোও হেলদোল নেই। কারন রাজার বিরুদ্ধে প্রশাসনের  কোনও স্তরে অভিযোগ জানালে কাজ হবে বুঝতে পারছে না এলাকার মানুষ জন।থানা প্রশাসন সবাই এড়িয়ে গেছেন এটা তাদের বিষয় নয় বলে । অগত্যা জনস্বার্থ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এলাকাবাসী।

            রাজা যা করে চলেছেন তা পুরোটাই ধর্মের নামে। কারন তিনি তো মহাদেবের বাহন।ভোলা মহেশ্বরের কাছে তাকে উৎস্বর্গ করা হয়েছিল রাজা নামে।সেই থেকে এলাকায় থেকেছে  সে। 'রাজা' নামেই বিস্তার করে চলেছে তার এলাকা।এখন সে পরিনত যুবা।তাই তার কাছে গ্রামবাসীরা যেতে ভয় পান। রাজা হল চার পা ওয়ালা ষাঁড়। আর তার সুচালো শিংয়ের গুঁতো তে ইতিমধ্যে প্রান হারিয়েছে দুই জন।নিহতরা হলেন কমল নস্কর (৭৫) ও সুবল মণ্ডল (৬০)। এখনো গ্রামে আহত হতে আছেন কালিপদ সরদার,সনাতন নস্কর, প্রলয় মণ্ডল, ও শুকদেব মণ্ডল।

      ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থানার দীঘিরপাড় ও নিকারীঘাটা দুই পঞ্চায়েত এলাকায়। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, এলাকায় একরকম দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই ঘাতক ষাঁড় টি।বাগানে ঢুকে বাগান তছনছ করে দিচ্ছে। কেই তাড়াতে গেলে তার দিকে তেড়ে আসছে। শিং দিয়ে গুতিয়ে মেরে দিচ্ছে। এই ষাঁড়ের ভয়ে কেউ তার কাছে যাচ্ছে না। কতদিন যে এই অত্যাচার চলবে বুঝতে পারছেন না কেউ ই। শুধু কি মানুষ তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ অন্য চতুষ্পদ প্রানীরা ও।

           বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীরা গন স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে।অভিযোগ জানাতে গিয়েছিল ক্যানিং থানাতে।কিন্তু থানার তরফে গ্রামবাসীদের সেই অভিযোগ গ্রহন করা হয়ে নি বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে ক্যানিং থানাতে অভিযোগ জানাতে আসা গ্রামের এক বাসিন্দার বিজন ভট্টাচার্য বলেন, "থানা জানিয়েছেন এটা তাদের বিষয় নয়। তাই অভিযোগ জানানো যাবে না।এবার বিষয়টি নিয়ে তাই মহকুমাশাসকের ও বনদফতরের অফিসে জানাবেন। আর তাতে কোনোও কাজ না হলে জনস্বার্থ মামলা করা হবে।আমরা চাই ষাঁড় টি কে এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক।ভয়ে বাচ্চারা বাড়ির বাইরে বের হতে পারছে না।"

              

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad