জয়ন্ত সাহা, আসানসোলঃ জীবন লড়াই করে অবশেষে ৩৬ দিন পর আসানসোলের বাড়িতে ফিরলো ভিন দেশে কাজ করতে যাওয়া আক্রান্ত প্রসেনজিৎ ও তার তিন সহযোগী। না কোনো প্রশাসনের মদতে নয়। সুদূর ভুটানের পাংভিসা থেকে পালিয়ে ছুঝুনগ ও টাঙ্গালুম বর্ডার পায়ে হেটে ভারতে ঢুকলেন তারা। সেখান থেকে হাসিমারা হয়ে শিলিগুড়ি দিয়ে বর্ধমান হয়ে আসানসোল।
সূত্রের খবর, বিগত ২২ মে কাজের লোভ দেখিয়ে প্রসেনজিৎ ও তার তিন বন্ধুকে কাজে পাঠায় বাঁকুড়ার আলোক ও তন্ময়। কিন্তু সেখানে পৌঁছে প্রসেনজিৎরা জানতে পারে তাদের বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ভুটানে গিয়ে তারা কুদ্দুস মিয়ার অধীনস্ত হয় । ৩ মিটার বাই ৬মিটার পাথর উত্তোলনের কাজ দেওয়া হয় তাদের। না পারলে গৃহবন্দি করে চলে ধোলাই। একবার মাত্র বাড়িতে খবর দেবার পর কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল। মা সবিতা ও স্ত্রী পিঙ্কি প্রশাসনের দরজা খতখটাতে থাকে। কিন্তু কোনও সাহায্যই পান নি বলে জানান তারা।
আক্রান্ত প্রসেনজিৎ বলেন, নিরুপায় হয়ে মৃত্যুকে সাথী করে ২৪ জুন রাত দুটোর সময় পালাতে সক্ষম হয় চার জন। পাহাড় জঙ্গলে অবিরাম ২ দিন হাটে তারা। অচেনা জায়গা। মিলিটারি, পুলিশ আর জংলি কুকুর, জন্তুর ভয়কে সাথে করে দু দিন পর এসে পৌঁছায় পাকা রাস্তায়। অর্থহীন প্রসেনজিৎ আর তিনজনকে ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখে দাঁড়িয়ে পরে এক গাড়ির ড্রাইভার। পায়ে হেটে ততক্ষনে ভুটানের দুই চেক পোস্ট তারা পর করেছে। এর পর গাড়ির চালকের সাহায্যে দুটি খাবার সঙ্গে নিয়ে জোয়াগা বর্ডার পার করে ভারতে ঢোকে তারা।

No comments:
Post a Comment