জীবনের কোন এক সময়ে মানসিক অবসাদ সবাইকে পেয়ে বসে। এমনকি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও এই মানসিক অবসাদ ছাড়েনি। তিনি মানসিক অবসাদে ভুগে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন। যার প্রমাণ তার চিঠিপত্র সমগ্রে পাওয়া যায়। কিন্তু আসল কথা হলো এই মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তির উপায়টাও থাকে নিজের হাতেই। কাজটা একটু কঠিন, তবে ব্যক্তি নিজেই এর নিয়ন্ত্রক। মানসিক অবসাদ কাটানোর কিছু সহজ উপায় আছে, যা জানা থাকলে কাজটি হয় সহজ। এমনই কয়েকটি উপায়ের কথা বলা হলো:
খাবার অবসাদ দূর করবে
মানসিক অবসাদে কারও খাবার চাহিদা কমে আবার কারো বেড়ে যায়। কিন্তু যদি একটু সচেতন হয়ে সঠিক খাদ্য তালিকা বেছে নেওয়া যায় তাহলে সহজেই মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি মেলে। যেমন- বাদাম, জাম জাতীয় খাবার, মধু, নারকেল, শস্য জাতীয় খাবার, টমেটো, মধু। এসব খাবার শরীরে অ্যান্ড্রোফিল নিঃসরণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় যা সুখানুভূতি বাড়িয়ে দেয়।
সূর্যের তাপ অবসাদ কাটাতে সাহায্যে করে
সূর্যের তাপ শরীরকে চনমনে রাখেতে সাহায্যে করে। কারণ শরীরে সেরোটোনিন (মস্তিষ্কের স্নায়ুকে সংযোজনকারী উপাদান) নিঃসরণ বাড়াতে সূর্যের তাপ বড় নিয়ামক। তাই নিয়মিত বাইরে বের হতে হবে, ঘোরাঘুরির অভ্যাস করতে হবে, সূর্যের আলোর সংস্পর্শে যেতে হবে তবেই মিলবে মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি।
দুঃখের গান থেকে বিরত থাকুন
মানসিক অবসাদে দুঃখের গান শোনার প্রবণতা বেড়ে যায় অনেকের। মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে হলে দুঃখের গান শোনা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ দুঃখের গান খারাপ সময়কে জাগিয়ে তোলে। আর সুখের গান উজ্জ্বল সময়কে মনে করিয়ে দেয়।
ধুমপান অবসাদের বড় কারণ
ধুমপায়ীদের ৬ দশমিক ৬ শতাংশের অবসাদে ভোগার আশঙ্কায় থাকে। অধুমপায়ীদের ক্ষেত্রে সেটা মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশ। এছাড়া ধুমপানকারীদের ৭০-৮০ শতাংশ জীবনে একবার হলেও অবসাদগ্রস্থ হন। আর এর নিয়ন্ত্রক হলো নিকোটিন যা মস্তিষ্কে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। তাই এই অভ্যাস ত্যাগ করলে অবসাদকে ছুটি দেওয়া সম্ভব।
ইতিবাচক মনোভাবের বন্ধুদের সময় দিন
নিঃসঙ্গতা একজনকে মানসিক অবসাদগ্রস্থ করবে এবং তা বাড়িয়েই যাবে। ইতিবাচক মানসিকতার বন্ধু এক্ষেত্রে অবসাদ কমাতে সাহয্যে করবে। শখের কাজও অবসাদ কমাতে সাহয্যে করে।
শরীরচর্চা অবসাদের বড় ওষুধ
যারা সপ্তাহে অন্তত একদিন শরীরচর্চা করে তাদের মানসিক অবসাদের আশঙ্কা কম। আর এটি গবেষণায় প্রমাণিত। এমনকি শরীরচর্চা অবসাদগ্রস্থ হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমায়।
অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে দুরে থাকুন
গবেষণা বলছে- ভাজা পোড়া, তেল-চর্বি জাতীয় খাবার, প্রক্রিয়াজাতকৃত মাংস কিংবা মিষ্টি মানসিক অবসাদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এমনকি এ ধরণের খাবার আচরণকে বিরক্ত ও আগ্রাসী করে তোলে।
রাত জাগা অবসাদের কারণ
বেশি রাত পর্যন্ত টিভি দেখা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যস্ত থাকা, কম্পিউটার স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা বা অফিস করাও অবসাদের বড় কারণ। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা এর সপক্ষে প্রমাণ দিয়েছে।

No comments:
Post a Comment