ট্রেনের চাকায় আত্মঘাতী যুবক, মহিলা - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 13 June 2018

ট্রেনের চাকায় আত্মঘাতী যুবক, মহিলা



ট্রেনের চাকায় আত্মহত্যা যুগলের। ঘটনাটি ঘটে মগরা ও তালাণ্ডু স্টেশনের মাঝে। স্থানীয়রা বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা নাগাদ মৃতদেহ দেখে আরপিএফ-কে খবর দেয়। পরে ব্যান্ডেল জিআরপি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

দুইজনেরই বাড়ি মগরার সুকান্তনগরে। যুবকের নাম যুগল দাস(২২)। সে সিঙ্গুরের আইটিআই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র। যুবতির নাম ঋত্বিকা রায়(২৫)। ৭ বছর আগে নিখিল রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। স্বামী প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। তাঁদের ৫ বছরের ছেলেও আছে। নিখিলের পরিবারের তরফে জানা যায়, ৩ বছর ধরে যুগলের সঙ্গে সম্পর্কে ছিল ঋত্বিকা। তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক জানতে পারে ঋত্বিকার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তারপর থেকেই পরিবারে মাঝেমধ্যে অশান্তি লেগে থাকত। সম্পর্কের কথা জেনে ফেললেও নিখিল ঋত্বিকাকে মেনে নেয়।



স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে শুনে নিখিল রায় বলেন, '"আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম ওকে, বিষয়টা কি সত্যি ? ও বলেছিল "হ্যাঁ।" তখন আমি ওকে বলি, যা হওয়ার হয়েছে। আর কিছু করো না। ও বলেছিল, "ঠিক আছে।" এরপর সব ঠিকঠাকই চলছিল। হঠাৎ যে কী হল ?"' একটু থেমে নিখিল বলতে থাকেন, '"কাল বিকেল ৫টা নাগাদ বাড়ি ফিরি। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাকে বলল, '"একটু বেরোচ্ছি।" আমি বললাম "কোথায় যাচ্ছ ?" বলল, "বাজারে যাব।" তখন সন্ধ্যা ৬টা হবে। ৭টা বাজে, তখনও দেখি ফেরেনি। ফোন করলাম। বলল, "বাজারের দিকেই আছি। কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরছি।" তারপর আমি আর ফোন করিনি। সাড়ে ৮টা নাগাদ আবার ফোন করি। তখন দেখি ফোন সুইচ অফ। তারপর আর আমার সঙ্গে কোনও কথা হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “শ্বশুরবাড়ি থেকে ওকে একটা স্কুটি দিয়েছিল। ওটা নিয়েই ঘুরে বেরাত। আমি কিছুদিন আগে ওদের সম্পর্কের বিষয়টা জানতে পারি। জানার পর বারণ করেছিলাম। ও শান্ত হয়ে গিয়েছিল। আমিও সেরকম সমস্যা দেখতে পাইনি। আমি জানতাম সব ঠিক হয়ে গেছে। ও যে হঠাৎ করে এরকম কিছু একটা করবে, বুঝতে পারিনি।” স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই মহিলার সঙ্গে আগেও কয়েকজনের সম্পর্ক ছিল। গত তিন বছর ধরে যুগলের সঙ্গে সে প্রেম করত। কিন্তু, কেন তারা আত্মহত্যা করল তা কেউ বলতে পারছেন না। যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি যুগলের পরিবারের সঙ্গেও।

মঙ্গলবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল যুগল ও ঋত্বিকা। আজ ভোরে মগরা ও তালাণ্ডু স্টেশনের মাঝে ১৩০ নম্বর গেটের কাছ থেকে তাদের দেহ উদ্ধার হয়। স্টেশনের কাছে একটি স্কুটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। অনুমান, ওই স্কুটি করেই দুইজনে স্টেশন পর্যন্ত আসে। ব্যান্ডেল জিআরপি-র তরফে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad