অনেকেই ভুগে থাকেন হার্নিয়ার সমস্যায়। আমাদের পেটের কিছু অংশ আছে যেগুলো আশেপাশের অংশ থেকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল থাকে। পেটের ভিতরের চাপ যদি বেশি হয়, যেমন-অনেকদিনের পুরনো হাঁচি-কাশি বা কোষ্ঠকাঠিন্য আছে, তাদের বেলায়ও ক্ষুদ্রান্ত্র এই দুর্বল অংশগুলো দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে৷ পেট ও ঊরুর সংযোগস্থলে হার্নিয়া হতে পারে। এটা সাধারণত পুরুষদের হয়। তবে নারীদেরও হতে পারে এটি। সঠিক সময়ে চিকিৎসার মাধ্যমে যন্ত্রণাদায়ক এ রোগটি থেকে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। চলুন জেনে নিই আপনার শরীরের গোপন লক্ষণগুলো সম্পর্কে, যেগুলো দেখে বোঝা যাবে আপনার হার্নিয়া আছে।
পেট ফুলে যাওয়া: হার্নিয়ার সবচেয়ে দৃশ্যমান লক্ষণ হচ্ছে পেটের কোনো না কোনো অংশে ফুলে যাওয়া। সেই ফোলা থেকে ভয়াবহ পেট ব্যথা হয়ে থাকে।
শরীর নিচু করলে ব্যথা অনুভব: শরীরটা নিচু করলে অথবা ভারী কোনো জিনিস বহন করলে পেট ব্যথা হলে ধরে নেবেন যে আপনার হার্নিয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি যদি কাশি হয় তাতেও পেট ব্যথা করতে পারবে। সেইসঙ্গে যদি পেটের মধ্যে চাপ চাপ অনুভব করেন তাহলেও হার্নিয়ার লক্ষণ হতে পারে।
পেট ভরা ভরা লাগা: পেট ফাপা নয় বরং পেট ভরা ভরা লাগলে হতে পারে হার্নিয়া। হার্নিয়ায় আক্রান্ত হলে পেটে থাকে তীব্র ব্যথা, এই ব্যথা চলে গেলে আপনার মনে হবে আপনি সবেমাত্র কোনো দাওয়াতে ভরপেট খেয়ে ফিরছেন।
পেশি দুর্বলতা: পেশি দুর্বলতা যেমন আপনার হার্নিয়ার কারণ হতে পারে তেমনি পেশি দুর্বল অনুভব হলেও হতে পারে হার্নিয়ার লক্ষণ। আপনি হার্নিয়ায় আক্রান্ত হলে আক্রান্ত জায়গার আশেপাশের এলাকার পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে।
বমি বমি ভাব হওয়া: পেটে যদি ঘন ঘন সমস্যা দেখা দেয় অথবা বমি বমি ভাব হয় তাহলে বুঝে নিতে হবে আপনার হার্নিয়া মারাত্মক অবস্থায় পৌঁছেছে। কোনোরকম দ্বিধা দ্বন্দ্ব না করে ডাক্তার দেখান।
জ্বর: জ্বর হলেই সচেতন হওয়া দরকার সবারই। সব ধরনের জ্বরই কোনো না কোনো রোগের পূর্বলক্ষণ। তবে হার্নিয়ার উপরোক্ত লক্ষণগুলোর সাথে যদি জ্বর থাকে তাহলে সেটা আপনার ঘাতকের ভূমিকা পালন করতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য: হার্নিয়া হলে আপনার খাবার হজম হতে বাধা দেয়, তাই এসময় আপনার দেখা দিতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য। কোষ্ঠকাঠিন্য এতই ভয়ঙ্কর হয়ে দেখা দিতে পারে যে, আপনাকে অপারেশন করতেও হতে পারে।
বুক জ্বালাপোড়া করা: বুক জ্বালাপোড়া করা অথবা বুকে ব্যথা হওয়া- এইসব লক্ষণগুলো দেখা দিলেও হতে পারে হার্নিয়া।

No comments:
Post a Comment