সরকারী পরিসেবাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল হুগলির
গোঘাটের ভাবাদিঘি এলাকা। এদিন আরামবাগের এসডিওকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ, গালিগালাচ, পরিসেবা প্রদানে বাধা
দান সহ লাঠি ঝাটা নিয়ে তেড়ে যাবার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল ভাবাদিঘি প্রাথমিক
বিদ্যলয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ওই প্রাথমিক
বিদ্যালয়ে বসেছিল সরকারী পরিসেবা ক্যাম্প। এই ক্যাম্প থেকেই দুস্থদের স্বাস্থ
পরিসেবা দেওয়া হচ্ছিল। কিছু মানুষ সেই পরিসেবা গ্রহনও করেছিল। পাশাপাশি প্রাকৃতিক
বিপর্যয় মোকাবিলা অফিসারের নেতৃত্বে গ্রামবাসীদের ত্রান সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। যদিও
আগের মতই ভাবাদিঘি নিয়ে আন্দোলনকারীরা কেউ পরিসেবা গ্রহন করেননি।
এদিন ক্যাম্প চলাকালীন ২০-২৫জন আন্দোলনকারী মহিলা
হাতে ঝাটা, লাঠি ওই ক্যাম্পে এসে
হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তারা অভিযোগ করে বলেন, জিনিষপত্রের লোভ দেখিয়ে ওই ক্যাম্প চালানো যাবেনা। এরপর স্কুলের ভিতরে ঢুকে
চেয়ার টেবিল উলটে দিয়ে কাগজপত্র কাঁদায় ফেলে দেন বলে অভিযোগ। ওই সময় ঘটনাস্থলে
হাজির ছিলেন আরামবাগের মহকুমা শাসক লক্ষী বি তেন্নারু। তাকে ঘিরেও আন্দোলনকারীরা
বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এই ঘটনায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রনের বাইরে যেতে থাকে।
পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তা সংখ্যায় অনেক কম ছিল। ফলে বিক্ষোভকারীদের বাধা না দিয়ে
মহকুমা শাসকের নিরাপত্তার কথা ভেবে পুলিশ মহকুমা শাসককে স্কুলের ভিতরে ঢুকিয়ে দেন।
বিক্ষোভকারীরা ওই স্কুলে তালা লাগিয়ে দেবার চেষ্টা করেন। এদিন বিক্ষোভকারীদের দাবী
মেনে সরকারী আধিকারীকরা ক্যাম্প বন্ধো করে দেন। ঘটনার খবর পেয়ে আরামবাগ সহ একাধিক
জায়গা থেকে পুলিশ কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাজির হন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করে বলেন, পরিসেবা দেওয়ার নাম
করে প্রতি সপ্তাহে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার
ক্ষতি হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে আরামবাগের এসডিও লক্ষী বি তেন্নারু সাংবাদিকদের বলেন, এই পরিসেবা ক্যাম্প
সফল ভাবেই চলছে। এদিন কিছু মানুষ ক্যাম্প করার বিরোধিতা করেছেন। তাই স্কুলের
বাচ্ছাদের কথা ভেবেই ক্যাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওদের বক্তব্য, আমরা কিছু নেবনা।
কাউকে কিছু নিতেও দেবনা। আমরা ওনাদের আবারও বোঝাব। যদিও গোঘাটের বিধায়ক মানষ
মজুমদার বলেন, ওদের উচিত, আদালতের রায়কে মান্যতা
দিয়ে রেল প্রকল্পের কাজ শুরু করতে সাহাজ্য করা।
No comments:
Post a Comment