সন্তানের স্বপ্নপূরণের জন্য বাবা-মারা কী না করেন। সাধ্যের মধ্যে তো বটেই, ছেলে-মেয়ের মুখে হাসি ফোটাতে কখনও কখনও অনেক অসাধ্যও সাধন করেন তাঁরা। তেমনই এক বিরল উদাহরণ তৈরি করলেন পাকিস্তানের এক ব্যক্তি। ছেলের বহুদিনের ইচ্ছে, সিংহের পিঠে চেপে বিয়ে করতে যাবে। শুনে চমকে উঠলেও সাত-পাঁচ না ভেবে ছেলেকে ‘তথাস্তু’ বলে দিয়েছিলেন ক্রোড়পতি বাবা। অবশেষে ইচ্ছেপূরণ হল। কার্যত সিংহের পিঠে চেপেই কনের কাছে পৌঁছলেন পাত্র।
মুলতানের বাসিন্দা শেখ মহম্মদের জন্য এলাহি বিবাহবাসরের আয়োজন করেছিলেন তাঁর বাবা। ছেলেকে আপাদমস্তক সোনায় মুড়ে দেওয়া হল। আন্দাজ করতে পারেন, ছেলের বিয়েতে নিমন্ত্রিতের সংখ্যা কত? দেড় হাজার! বিপুল অর্থ খরচ করা এমন বিয়ে কে-ই বা মিস করতে চান! কনের বাড়িতে বরের অভিনব এন্ট্রি দেখতে সকলেই পৌঁছে গিয়েছিলেন। রাস্তায় রীতিমতো অর্থবৃষ্টি করে সেলিব্রেশনে মাতলেন বরযাত্রীরা। সঙ্গে তাঁদের নাচ-গান তো ছিলই। কিন্তু এসব জৌলুসের মধ্যেও সকলের বিশেষ নজর ছিল একদিকে। নাহ্। পাত্র কেমন দেখতে, তা নয়। বরং পাত্র কীভাবে সিংহের পিঠে চেপে বিবাহ আসরে যাচ্ছেন, সেদিকে। সম্প্রতি শেখ মহম্মদের একটি ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপাতত ভাইরাল।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি গাড়িতে উপর খাঁচার ভিতর ঘোরাফেরা করছে পশুরাজ। আর তার উপর চেয়ারে বসে রয়েছেন শেখ। ক্রোড়পতি পরিবারের সঙ্গে মানানসই হতে পাত্রপক্ষকে পাঁচ কোটি টাকা পণ দিয়েছে কনের পরিবার। এছাড়া নতুন জামাইকে যা যা দেওয়া হচ্ছে, তার একটি ভিডিও বানিয়ে বিবাহ আসরে সকলের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। হন্ডা গাড়ি থেকে মোটরবাইক, ওয়াশিং মেশিন থেকে টেবিল ফ্যান, সবই ছিল তালিকায়। তবে এভাবে সম্পত্তি জাহির করা ও বন্যপ্রাণীকে অত্যাচারের জন্য পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই পরিবারের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, আয়কর বিভাগও পরিবারের কাছ থেকে এই বিপুল অর্থের উৎস জানতে চেয়েছে।

No comments:
Post a Comment