দেশে আজ ‘কার্গিল বিজয় দিবস’ পালন করা হচ্ছে। প্রত্যেক বছর ২৬ জুলাইয়ের এই দিনটি ‘কার্গিল বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
দিনটিকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কার্গিল বিজয় দিবস ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্ষমতাকে মনে করিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘কার্গিল বিজয় দিবস আমাদের সেনাবাহিনীর শৌর্য ও সশস্ত্র জওয়ানদের ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেয়, যে জন্য ভারত বরাবর সুরক্ষিত রয়েছে।'
তিনি বলেন, ‘দেশের গর্বরক্ষা ও নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে কার্গিলের যুদ্ধে বীর জওয়ানরা সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন।’
আজ দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি ও ৩ বাহিনীর প্রধানরা কার্গিল যুদ্ধের শহিদদের উদ্দেশ্যে ‘অমর জ্যোতি জওয়ান’-এ বিশেষ শ্রদ্ধা জানান।
কার্গিলের দ্রাসে সেনাবাহিনীর উত্তর কম্যান্ডের কমান্ডার লে. জেনারেল দেবরাজ আনবুর সঙ্গে শহীদ হওয়া সেনা জওয়ানদের পরিবারের লোকজন শ্রদ্ধা জানান।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্গিল দিবসকে স্মরণ করে বলেছেন, আমাদের মাতৃভূমির জন্য যে সাহসী সেনারা যারা যুদ্ধ করেছে এবং যাদের অনেকেই জীবন দিয়েছেন তাদেরকে স্যালুট জানাই।
লক্ষনৌতে স্মৃতি ভাটিকাতে কার্গিল যুদ্ধে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান উত্তরপ্রদেশের গভর্নর রাম নায়েক ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
১৯৯৯ সালের জুলাইতে ভারতীয় সেনাবাহিনী কার্গিলে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীদের হটিয়ে দেয়। ‘অপারেশন বিজয়’ নামে ওই মিশনে ৫২৭ ভারতীয় সেনা জওয়ান নিহত হয়। প্রায় দু’লাখ সেনার উপর‘অপারেশন বিজয়’-এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কারগিলে মোতায়েন ছিলেন প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয় জওয়ান।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, কার্গিল যুদ্ধে তাদের ৩৫৭ জন সেনা জওয়ান নিহত হয়েছিল। যদিও ভারতীয় সেনা কর্তৃপক্ষের তদন্তে ৩ হাজারেরও বেশি পাক সেনা নিহত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
১৯৯৯ সালের মে মাসে কার্গিলে ভারতীয় এলাকায় পাকিস্তানিদের অনুপ্রবেশের ঘটনার পর সেখানে উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। ১৯৯৯ সালের ২৬ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী কার্গিল যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সেদিন থেকে এই দিনটি ‘কার্গিল বিজয় দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।


No comments:
Post a Comment