কাশ্মিরের কারগিলে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ যখন তীব্র রূপ নিয়েছে, সেই সময় পাকিস্তানে সর্বাত্মক বিমান হামলা চালানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছিল ভারতীয় বিমান বাহিনী।
এনডিটিভি বলছে, ১৯৯৯ সালে ১৩ জুন ভোররাতে বাহিনীটির যুদ্ধবিমানের পাইলটরা পাকিস্তানের কেন্দ্রস্থলে বোমাহামলা চালানো থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে ছিল।
কোথায় কোথায় হামলা চালানো হবে সেই লক্ষ্যস্থল ঠিক হয়ে গেছে, রুট ম্যাপও প্রস্তুত; পাইলটরা ব্যক্তিগত রিভলবারে গুলি ভরে নিয়েছেন, পাকিস্তানি রুপিও সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে প্যারাসুট যোগে নামতে বাধ্য হলে এগুলো অবলম্বন করে বাঁচার চেষ্টা করবে আক্রমণকারী ভারতীয় পাইলটরা।
ভারতীয় বিমান বাহিনীর নথির তথ্যে দেখা যায়, কাশ্মিরের লাইন অব কন্ট্রোল বা ভারত-পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে এসব পাইলটরা তখন মিনিট খানেকের দূরত্বে ছিল।
এই বিমান হামলা শুরু হলে কারগিলের সীমিত যুদ্ধ পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশী দেশদুটির মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের সূচনা হতো।
দিল্লিতে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশোবন্ত সিংয়ের সঙ্গে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সারতাজ আজিজের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পুরোদস্তুর এ হামলার পরিকল্পনা করে ভারতীয় বিমান বাহিনী।
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরে ও রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর ঘাঁটি চাকলালায় প্রথম আঘাত হানার সিদ্ধান্ত হয়।
অধিকৃত কাশ্মিরে বোমাবর্ষণ করা হবে আর চাকালালায় বোমা হামলা চালিয়ে পাকিস্তানি বিমান ঘাঁটির রানওয়ে অকেজো করে দেওয়া হবে, এই ছিল পরিকল্পনা।
ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতীয় বাহিনী ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের ওপর হামলা করবে।
“১৩ জুন ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে আমরা স্কোয়াড্রনে গিয়ে রিপোর্ট করলাম, আমরা যুদ্ধের জন্য তৈরি। পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় আছি, কিন্তু পরবর্তী নির্দেশ আসছে না। সকাল পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করলাম, অবশেষে সাড়ে ১২টায় আমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হল,” দাপ্তরিক নথিতে এক পাইলটের ডায়রির নোটে এ সাক্ষ্য পাওয়া যায়।
ওই সময় ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের শ্রীনগরে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে থাকা মিগ-২১ এর এক সাবেক পাইলটও ওই নির্দেশ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাইলট বলেন, “আমি রাতের খাবার খাচ্ছিলাম। আমাদের ঘাঁটির অপারেশন রুমে পাঠানো হল। সেখানে কমান্ডের এক জেন্টেলম্যান ছিলেন। তিনি বললেন, ‘সকালে বেলুনগুলো উপরে উঠতে যাচ্ছে, তোমরা প্রথম স্ট্রাইক মিশনে থাকছ।’
ভারতীয় বিমান বাহিনীর মিগ-২১, মিগ-২৭ ও মিগ-২৯ সহ মোট ১৬টি যুদ্ধবিমান এই হামলার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এ হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় কারগিল যুদ্ধ আর সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নেয়নি।

No comments:
Post a Comment