এক সময় ইমামতি ও শিক্ষকতা ছিল বেলো আবুবকরের পেশা। বর্তমানে তার নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। নির্দিষ্ট কোনো আয়ের উৎসও নেই। তাই ৯৭ স্ত্রী ও ১৮৫ সন্তানের ভরণ-পোষণ আবুবকর কীভাবে করেন তা এক রহস্য বটে। তার স্ত্রী ও সন্তানদের দেখলে সুখীই মনে হয়। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে আবুবকরের সাফ জবাব, ‘সব সৃষ্টিকর্তার রহমত।’
বয়সের সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়নি এখনো। তবে বিয়ের সেঞ্চুরি তিনি করে ফেলেছেন অনেক আগেই। ১০৭টি বিয়ে করেছেন নাইজেরিয়ার মোহাম্মদ বেলো আবুবকর। তার রয়েছে ১৮৫ সন্তান। তাতেও অবশ্য ক্ষান্ত হচ্ছেন না এই ৯২ বছর বয়সী বৃদ্ধ। আরো বিয়ে করতে চান তিনি। আবুবকর ঘোষণা দিয়েছেন-যতদিন বেঁচে থাকব ততদিনই একের এক বিয়ে করব।
একের পর এক বিয়ে করায় নাইজেরিয়ায় বিতর্কিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন আবুবকর। তবে তিনি বিষয়টিকে সৃষ্টিকর্তার দেওয়া দায়িত্ব হিসেবেই মনে করেন।
আবুবকরের বয়স বর্তমানে ৯২ বছর। অনেকে তাকে মোহাম্মাদু বেলো মাসাবা নামে চেনে। নাইজেরিয়ার এক বিতর্কিত ব্যক্তি আবুবকর। মুসলমানদের অনেকেই তাকে ঘৃণা করে। এর কারণ হলো তার এই ‘বিবাহপ্রীতি’। যারা আবুবকরের এই আচরণ মেনে নিতে পারে না তাদের যুক্তি হলো-ইসলাম কখনোই একজন পুরুষকে ৪টির বেশি স্ত্রী রাখার অধিকার দেয় না। তাও আবার সব স্ত্রীকে সমভাবে ভরণ-পোষণ করার ক্ষমতা থাকলেই কেবল এই অনুমতি মেলে। কিন্তু আবুবকরের বর্তমান স্ত্রীর সংখ্যা ৯৭ জন। তার নির্দিষ্ট কোনো আয়ের উৎস নেই। তাই ইসলামের নিয়মনীতিকে অপমান করছে সে।
তবে এসব কথায় কান দেওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই আবুবকরের। তার বিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তা তাকে মনোনীত করেছেন বলেই তার পক্ষে এতগুলো বিয়ে করা সম্ভব হয়েছে। তাই যারা তার বিরুদ্ধাচারণ করছে তারা আসলে মহান আল্লাহতায়ালারই ইচ্ছের বিরুদ্ধাচারণ করছে। আবুবকরের ভাষায়, ‘যদি সৃষ্টিকর্তা আমাকে অনুমতি দেয় তাহলে ভবিষ্যতে আমি আরো বেশি বিয়ে করব। একজন সাধারণ মানুষ ৮৬টি বিয়ে করার ক্ষমতা রাখে না। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। বিয়ের বিষয়ে সৃষ্টিকর্তার বিশেষ রহমত রয়েছে আমার ওপর। আমি ৮৬টি বিয়ে করেছি এবং আমার সংসারে সুখ রয়েছে। যদি সংসারে সুখ থাকে তাহলে অধিক সংখ্যক বিয়ে করায় দোষের কিছু নেই।’
ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর পত্রিকাকে বেলো আবুবকর যখন এই কথা বলেছিলেন তখন তার স্ত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৬ জন। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ জনে। মোট ১০৭টি বিয়ে করেছেন তিনি। এর মধ্যে ১০জনকে বিভিন্ন সময়ে তালক দিয়েছেন।

No comments:
Post a Comment