২১শে জুলাইয়ের সভা নিয়ে মধ্যমগ্রাম পৌরসভা হলে তৃণমূল কর্মীদের একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই বৈঠকে বক্তৃতা রাখতে গিয়ে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেন, “অমিত শাহ বন্দেমাতরম নিয়ে কথা বলবেন, আমরা শুনব? আমরা কোনও জবাব দেব না। বঙ্কিমচন্দ্র কি বিজেপি-র বাবার সম্পত্তি হয়ে গেছে?”
তিনি আরও যোগ করেন, “প্রিয়’দা আমাদের শিখিয়েছিলেন, মন্ত্র মোদের সঞ্জীবন, বন্দেমাতরম। এগিয়ে চলো জোরকদম, বন্দেমাতরম। সেই বন্দেমাতরম নিয়ে অমিত শাহর মতো একটা উজবুক, যে লোকটা সোরাবুদ্দিন হত্যা মামলায় তিনমাস জেলে ছিল, সে বাংলার মাটিতে এসে লেকচার দিয়ে যাবে। আর আমাদের দলের ছেলেরা একটা পথসভা করে তার প্রতিবাদ করবে না, এটা এই বয়সে দাঁড়িয়ে আমার সহ্য হয় না। মমতা ব্যানার্জি থাকতে পশ্চিমবঙ্গে এসে অমিত শাহ বলে যাবে, আমরা ২২টা আসন নিয়ে যাব? মমতা ব্যানার্জি থাকতে বিজেপি ৪২টার মধ্যে ২২টা আসনে লড়বে? গতবার তো ওরা দুটো আসন পেয়েছিল। তারমধ্যে একটা গুরুংকে হাতেপায়ে ধরে দার্জিলিং থেকে পেয়েছিল। মমতা ব্যানার্জির এত জনপ্রিয়তা কমে গেছে যে ওরা ২২টা আসন কেড়ে নেবে? সেটা আজও কমেনি। আর সেটাই বলার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের যেতে হবে।”
প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুন দু’দিনের সফরে রাজ্যে এসেছিলেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। জি ডি বিড়লা সভাঘরে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের তরফে সেদিন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জাতীয় স্মারক বক্তৃতা নামাঙ্কিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ। সেখানেই তিনি বলেন, “কংগ্রেস যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন বন্দেমাতরমকে রাষ্ট্রগানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল একথা ঠিক। কিন্তু, এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ গানটি ব্যবহার করা হয়নি। শুধু প্রথম দু'টি স্তবকই বেছে নেওয়া হয়েছিল। আমার দুঃখ একটাই, কংগ্রেসের নেতারা এই ভুল না করলে দেশভাগের যন্ত্রণা আমাদের সহ্য করতে হত না। দেশভাগের জন্য ইতিহাসবিদরা কখনও খিলাফত আন্দোলনকে দায়ি করেন তো কখনও ইংরেজদের শাসন ব্যবস্থাকে দায়ি করেন। কখনও দায়ি করা হয় মুসলিম লিগের "টু নেশন" তত্ত্বকে। কিন্তু, আমার মতে বন্দেমাতরমকে খণ্ডিত করে দেশভাগের পথ প্রশস্ত করেছিল কংগ্রেস।”
তিনি আরও যোগ করেন, “বন্দেমাতরমের সঙ্গে ধর্মের কোনও যোগ নেই। এই গানে কাউকে ছোটো করে দেখানোরও চেষ্টা করা হয়নি। গানটি দেশবাসীর সঙ্গে রাষ্ট্রের যোগাযোগ স্থাপনের একটি বিনম্র প্রচেষ্টা মাত্র। এই পবিত্র রচনাকে ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করে অনেক বড় ভুল করেছিল কংগ্রেস। রাজনৈতিক কারণে নয়, দেশের মানুষ যাতে এই ইতিহাস জানতে পারেন, তাই আজকের বক্তৃতায় বিষয়টি তুলে ধরলাম। ইতিহাসের ভুলগুলো যারা বুঝতে পারেন তারাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং মদন মিত্রও। এই অনুষ্ঠান থেকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, “২০১৯ সালে আমাদের রাজ্য থেকে বিজেপি-র বিসর্জন হবে। মা দূর্গার বিসর্জন হতে আমাদের চোখে জল আসে। আর বিজেপি-কে বিসর্জন দিয়ে দলের কর্মীদের নিয়ে ফুর্তি করতে ঢাকঢোল নিয়ে বেরিয়ে পড়ব।”
তিনিও অমিত শাহকে একহাত নেন। বলেন, “রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তিনি মাঝখানে বলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, রবীন্দ্রসংগীত বলেই তিনি থেমে যান। আমার মনে হয় এগুলো না জেনে বলা একেবারে উচিত নয়। দিলীপ ঘোষ বা রাহুল সিনহার মতো নেতাদের ওঁকে বোঝানো উচিত ছিল। কারণ এর মধ্যে বাংলা এবং বাঙালির সেন্টিমেন্ট জড়িয়ে আছে। আমার মনে হয়, তিনি ঠিকমতো বাংলা নিয়ে পড়েননি। বাঙালি মহাপুরুষদের জীবনযাত্রা সম্পর্কেও জানেন না। কারণ বাংলার মহামানবরা শুধুমাত্র দেশে নয়, পৃথিবীর মানচিত্রে স্বতন্ত্রভাবে জায়গা করে নিয়েছেন। গোটা পৃথিবীর মানুষ তাঁদের সমীহ করে। আর অমিত শাহ একজন সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের সভাপতি হয়েও এটা জানেন না। এটা খুব দুঃখের, এটা লজ্জার।”
সূত্রঃ ইনাডু

No comments:
Post a Comment