অর্ক রায়, মালদা: কোনও প্রত্যন্ত গ্রাম নয়, মালদার জেলাশাসক অফিসের থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে একটি স্কুলে প্রশাসনিক জটিলতায় বন্ধ মিড-ডে মিল। ঘটনাটি মালদা শহরের বাঁশবাড়ি এলাকায় উমেশ চন্দ্র বাস্তুহারা উচ্চবিদ্যালয়ের। এই বিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যা প্রায় আটশো। কয়েকদিন ধরে মিডডে মিল বন্ধ থাকায় কমছে ছাত্র সংখ্যাও। আর এই ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করতে ব্যাস্ত স্কুলের শিক্ষক থেকে ম্যানেজিং কমিটি সকলেই।
স্কুলের ছাত্রদের একটা বড় অংশের অভিযোগ ,তাদের বেশীভাগের অভিভাবকেরা কাজের জন্য সকালে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। ফলে তাদের মুলত খালি পেটে স্কুলে আসতে হয়। স্কুলের মিডডে মিলের রান্না খাওয়ারের ওপর নির্ভর করে থাকতে হয়। মিডডে মিল বন্ধ থাকায় স্কুলের ছাত্র সংখ্যাও শুরু করেছে কমতে। অসুস্থ স্কুলের প্রধান শিক্ষক সনত কুমার সাহা। সেই কারনে সাত মাস ধরে ছুটিতে রয়েছে তিনি। স্কুল পরিচালনার দ্বায়িত্বে রয়েছে সহকারী প্রধান শিক্ষক অচিন্ত কর্মকার। তবে তার দাবি প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর ছাড়া মিডডে মিলের টাকা তোলা সম্ভব হচ্ছে না। দোকানে প্রচুর ধার রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে মিডডে মিল বন্ধ করেছি। ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক তথা ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক সদস্য বদিউস জামাল স্কুলের মিডডে মিল বন্ধ হওয়ার জন্য ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ওপরে দোষ চাপান। তিনি বলেন,প্রধান শিক্ষক সাতমাস ধরে স্কুলে না এলেও এখনো পর্যন্ত টি আই সি নিয়োগ করেনি ম্যানেজিং কমিটি। এমনকি সিগন্যাচারি অথিরিটিও পরিবর্তন করছে না সভাপতি। তাই অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে মিডডে মিল। কবে চালু হবে তারও ঠিক নেই। এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে পরিচালন কমিটিকে সভাপতি দিপঙ্কর চৌধুরী বলেন, সমস্ত বিষয়টি ডি আইকে জানানো হয়েছে। তার নির্দেশ মত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। এই বিষয়ে সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক অনঙ্গ মোহন আলিপাত্র বলেন, মিডডে মিল বন্ধ হওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। ডি আই এর সাথে কথা বলে দ্রুত মিডডে মিল চালু করা হবে বলে জানান তিনি।


No comments:
Post a Comment