গৃহবধুর চারিত্রিক ত্রুটির অভিযোগ তুলে তাঁকে মারধোর
করে তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠল পাড়ার মাতব্বরদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ওই গৃহবধুকে
বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যে প্রবল ভয় দেখান হয় বলে অভিযোগ। বুধবার ঘটনাটি
ঘটেছে খানাকুল থানার ধরমপুর মল্লিকপাড়ায়। শুক্রবার এই ঘটনায় খানাকুল থানায় একটি
অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খানাকুলের ধরমপুরের মল্লিকপাড়ার
বাসিন্দা ওই গৃহবধূর স্বামী কলকাতায় কাজ করেন। দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে ধরমপুরে গ্রামের
বাড়িতেই থাকেন ওই গৃহবধু। বুধবার ওই গৃহবধূ খানাকুলের রাজহাটি এলাকায় গিয়েছিলেন কেনা
কাটা করতে। সেখানে তিনি এক ব্যক্তির সাথে গল্প করছিলেন। এই ঘটনা নজরে পড়ে স্থানীয়
সেখ বেলাল নামে এক ব্যক্তির। সাথে সাথেই সে মোবাইল ক্যামেরায় তাদের ছবি তুলে
ধরমপুর এলাকার কিছু যুবককে সেই ছবি দেখায়। এর পরেই মহিলার চরিত্র খারাপের অভিযোগ
তুলে স্থানীয় মাতব্বররা ঐ গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে
ওই গৃহবধুকে বাড়ি থেকে বের করে এনে ব্যাপক মারধর করে। ঘটনায় সামিল হন পাড়ার
বেশকিছু মহিলারাও। এর পরে তাকে ধরে মাথার অর্ধেক অংশ চুল কেটে নেওয়া হয়। সারারাত
বাড়ির সামনে একটি খুটিতে ওই অবস্থায় বেধে রাখা হয় ওই গৃহবধুকে। বৃহস্পতিবার সকালে
ওই গৃহবধূর বাঁধন খুলে জোর করে তাকে তার বাপেরবাড়ি শাবলসিংহপুরে পাঠানো হয় বলে
অভিযোগ। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে কলকাতা থেকে ওই গৃহবধূর স্বামী শাবলসিংহপুর গ্রামে ছুটে
আসেন। শুক্রবার খানাকুল থানায় যান নিগৃহীতা
গৃহবধূ। সেখানে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। যদিও প্রথমে থানা অভিযোগ
নিতে চায় নি। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় হৈ চৈ হতেই পুলিশ নড়ে চড়ে বসে। পুলিশ
জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে এই ঘটনায় প্রধান
অভিযুক্ত সেখ বেলালকে সাইবোনা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

No comments:
Post a Comment