টাকার বিনিময়ে ছাত্র
ভর্তির অভিযোগে দু-জনকে আটক করল উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে
উত্তরপাড়া রাজা প্যারীমোহন কলেজে। অভিযুক্তদের নাম সঞ্জু সিং ও শুভ অধিকারী। এদের
মধ্যে সঞ্জু সিং উত্তরপাড়া প্যারীমোহন কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। অভিযোগ সঞ্জু সিং
এবিভিপির সমর্থক।
প্যারীমোহন কলেজের তৃণমূল
ছাত্র সাংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন
দুই ছাত্র কলেজে ভর্তির জন্যে ছাত্র সংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ছাত্র সংগঠনের
তরফে সাফ জানিয়েছে দেওয়া হয়, ভর্তি
প্রকৃয়া সম্পূর্ন হয়ে গিয়েছে। কোনও ভাবেই ভর্তি করা সম্ভব নয়। এই কথা শুনে ওই দুই
ছাত্র কলেজের বাইরে চলে যায়। সেখানে দুই ছাত্র তথা সঞ্জু সিং ও শুভ অধিকারীর সঙ্গে
তাদের কথাবার্তা চালাতে থাকে। সেই সময়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমর্থকরা বিষয়টি
শুনতে পেয়ে তাদের ছাত্র সংসদে নিয়ে যায়। এরপর উত্তপপাড়া থানার পুলিশের হাতে তাদের
তুলে দেওয়া হয়। এই বিষয়ে হুগলি জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি গোপাল রায়
বলেন, আমরা
আগেও বলেছি কোন ছাত্র নেতা টাকার বিনিময়ে কলেজে ছাত্র ভর্তি করতে পারবেনা। তবে
তাকে জেলে যেতে হবে। এদিন কলেজে আরএসএসের এক ছাত্রনেতা টাকার বিনিময়ে ছাত্র ভর্তির
চেষ্টা করেছিল। আমাদের ছাত্ররা বিষয়টি জানতে পেরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ওই
একই অভিযোগ করেন উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল।
যদিও এই বিষয়ে বিজেপির
শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ভাষ্কর ভট্টাচার্য বলেন, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের
নেতারা টাকার বিনিময়ে কলেজে ছাত্র ভর্তি করে সেটা প্রামানিত। তাই মুখ্যমন্ত্রী মুখ
খোলার পরই চারিদিকে হৈচৈ পড়ে গিয়েছে। সেটা ঢাকতেই টিএমসিপি লোকজন এবিভিপিএর
ছাত্রদের উপর দায় চাপিয়ে নজর ঘোড়াবার চেষ্টা করছেন। কলেজে টাকা নিয়ে ভর্তি
রুখতে হুগলির বিভিন্ন থানা এলাকার কলেজ গুলোতে পুলিশের তরফে পোষ্টার ব্যানার ও
ক্যাম্পেনিং করা হচ্ছে বলে খবর। এদিন চন্দননগর পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার চুঁচুড়া ও
চন্দননগরের বেশ কয়েকটি কলেজে গিয়ে ভর্তি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে খোঁজ খবর নেন। যদিও
উত্তরপাড়ার বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছেন, এই
ঘটনায় ২জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আটক করা হয়েছে। গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment