মমির কথা উঠলেই, মানসপটে ভেসে ওঠে মরুভূমির বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা মিশরের কালোত্তীর্ণ পিরামিডগুলোর চিত্র, যার মধ্যে আজও সংরক্ষিত রয়েছে ইতিহাসে স্থান করে নেয়া বহু বিখ্যাত মানুষের মমি। তবে পিরামিড নয়, এবার আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের একটি বাড়ি থেকে এক নারীর মমি পাওয়া গেছে। প্রাকৃতিকভাবেই নিজের বাড়িতে নিজেই মমি হয়ে ছিলেন মারিয়া ক্রিস্টিনা ফন্টানা। ১৯৫৩ সালে জন্ম তার। সম্প্রতি এক প্রতিবেশী মারিয়ার বাড়িতে গিয়ে তারই মমি দেখতে পান। গত ১০ বছরেরও বেশি সময় মারিয়াকে দেখেননি বলে জানান ওই প্রতিবেশী মার্সেলা ক্যালভেট।
এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। আবহাওয়ার কারণে মারিয়ার শরীরের ত্বকের টিস্যু শুষ্ক হয়ে সংরক্ষিত হয়েছিল। তার মৃত্যুর সময় এবং কিভাবে তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন, তা শনাক্ত করতে মারিয়ার দেহাবশেষ নিয়ে চলছে গবেষণা। ধারণা করা হচ্ছে, ৫১ বছর বয়সে মারিয়ার মৃত্যু হয়েছিল। তিনি অ্যানিউরিজম নামে একটি রোগে ভুগছিলেন। ১৯৯০ সালে তার শরীরে একবার অস্ত্রোপচারও করা হয়। এ রোগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হচ্ছে, মৃত্যুর আগেও তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন এবং এক পর্যায়ে চলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। ভবনটির দারোয়ান জানান, আমরা সবাই ভীষণ বিস্মিত। কারণ, ওই ভবনটির অন্যান্য ফ্ল্যাটে থাকা কোন পরিবার কখনোই তার মৃত্যুর বিষয়টি জানাননি এবং কখনও কেউ অস্বাভাবিক ও উৎকট গন্ধ পাওয়ার কথা বলেননি।
তিনি বলেন, কেউ কিছুই জানেন না। এটা এক রহস্য। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উষ্ণ ও শুষ্ক জলবায়ুর কারণে মৃতদেহ প্রাকৃতিকভাবে মমি হয়ে যেতে পারে। প্রতিবেশী মার্সেলা ভেবেছিলেন বাড়িটিতে কেউ থাকেন না। আইন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন শূন্য পড়ে থাকায় সম্পত্তির যে অধিকার চলে আসে, সেটাই দাবি করতে গিয়েছিলেন মার্সেলা। বাড়িতে গিয়েই তিনি মমিটি দেখতে পান। গত জানুয়ারি মাসে বুয়েন্স আয়ার্সের অপর একটি বাড়ি থেকে মমি হওয়া মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনিও নিজ বাড়িতেই প্রাকৃতিকভাবে মমিতে পরিণত হয়েছিলেন। ৫৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির মৃত্যুর প্রায় ১ মাস পর তার মমিতে পরিণত মৃতদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

No comments:
Post a Comment