যৌন ব্যবসা করে বড়লোক কিশোরী - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 12 July 2018

যৌন ব্যবসা করে বড়লোক কিশোরী


কানাডার রাজধানী শহর অটোয়া। এখানকার অভিজাত আবাসন ওয়াকলে হাউজিং কমপ্লেক্সের বাসিন্দা পনেরো বছরের কেলি অলিভার-মাচাডোর। এই বালিকার রাতারাতি বড়লোক হওয়ার তীব্র ইচ্ছা। আর তার জেরেই ঠান্ডা মাথায় অবৈধ যৌন ব্যবসায় হাত পাকায় সে।
কেলি নাবালিকাদের ফুঁসলিয়ে গোপন জায়গায় নিয়ে এসে তাদের মাদক খাইয়ে বেহুঁশ করে পূর্ব নির্ধারিত গ্রাহকদের সঙ্গে বিভিন্ন যৌন কর্ম করতে বাধ্য করে। এমনই সুপরিকল্পিত ভাবে অবৈধ যৌন ব্যবসার সাহায্যে রীতিমতো বিত্তশালী হয়ে উঠেছিল কানাডার এ ১৫ বছর বয়সী নাবালিকা। শেষ পর্যন্ত তিন বছর পর আদালতে ফাঁস হল সাড়াজাগানো এ অপরাধ।
জানা যায়, কেলি এলাকায় সমবয়সী অথবা তার চেয়েও বয়সে ছোট মেয়েদের সঙ্গে ফেসবুক ও টুইটারে যেচে বন্ধুত্ব পাতাতো। তারপর তাদের পার্টি অথবা নিজের বাড়িতে রাত কাটানোর প্রস্তাব দিত। একবার কেউ ফাঁদে পা দেয় তাহলেই শেষ।
সদ্য পাতানো বন্ধুর বাড়িতে হাজির হলে মিলত উষ্ণ অভ্যর্থনা। এরপর খাবার বা পানীয়ে মিশিয়ে শিকারকে মাদক খাইয়ে অজ্ঞান করে তার নগ্ন ছবি তোলা হত। সেই ছবি ইন্টারনেট মারফত সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দেওয়া হত সম্ভাব্য খদ্দেরের কাছে। মক্কেলের পছন্দ হলে বেহুঁশ নাবালিকাকে ট্যাক্সিতে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হত নির্দিষ্ট বাড়িতে। সেখানে তাকে গ্রাহকের সঙ্গে বিবিধ যৌন ক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা হত। আপত্তি জানালে হুমকি এবং অনেক সময় শারীরীক নিগ্রহও করা হত বলে অভিযোগ। খদ্দেরের থেকে এই বাবদ ৪০০ ডলার ফি আদায় করত কেলি।
এই ব্যবসা কেলি একা করতো না তাকে সাহায্য করতো আরও দুইজন। তবে এখনও অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকার কারণে তাদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।
কেলির অত্যাচারে জর্জরিত তিনটি মেয়ের অভিযোগ পাওয়ার পর তার সম্পর্কে প্রমাণ খোজে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত বেশ কিছু প্রমাণের ভিত্তিতে নাগাড়ে তিন বছর রমরমিয়ে যৌন ব্যবসা চালানোর পর ২০১৩ সালে পুলিশের জালে ধরা পড়ে এই মক্ষীরানি। ওই বছর এপ্রিল মাসে শুরু হয় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানি।
ইতিমধ্যে পেরিয়ে যায় এক বছর। তাই একজন পূর্ণবয়স্ক হিসেবেই তার বিচার করেন বিচারক। ১৮ বছরের কেলির বিরুদ্ধে মোট ২৭টি অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। নারীপাচার চক্র চালানো, যৌন নিগ্রহ এবং শিশু-পর্নোগ্রাফি বিশিষ্ট সামগ্রী নিজস্ব সংগ্রহে রাখার দায়ে বিচারক তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad