১৯৯৯ কার্গিল যুদ্ধ : পাক সেনাদের কিভাবে পরাস্ত করেছিল ভারত ? - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 24 July 2018

১৯৯৯ কার্গিল যুদ্ধ : পাক সেনাদের কিভাবে পরাস্ত করেছিল ভারত ?


১৯৯৯ সালের গ্রীষ্মে হঠাৎ করেই খবর পাওয়া গেল, কাশ্মীরের কার্গিল সেক্টরের দখল নিয়েছে পাকিস্তানি সেনা ও কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। প্রথমদিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জড়িত থাকার কথা কোনওভাবেই স্বীকার করেনি পাকিস্তান। বিচ্ছিন্নতাবাদীরাও এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে উল্টে ভারতের উপরেই বিষোদ্গার করে পাকিস্তান। তবে ভারত তথ্যপ্রমাণ দিয়ে জানায়, কীভাবে গোপনে ভারতের কার্গিল এলাকা দখলে নিয়েছ পাকিস্তান ও কীভাবে ভারতীয় সেনাদের মেরে ফেলা হয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মুশারফের সঙ্গে পাক সেনা অফিসারের যুদ্ধ সংক্রান্ত কথোপকথনও প্রকাশ করে একেবারে নির্ভেজাল সত্য তুলে ধরে ভারত। এরপরই শুরু হয় কার্গিল বিজয়ের পালা। বায়ুসেনা ও ভারতীয় স্থলসেনার যৌথ প্রচেষ্টায় ভারতেরই এলাকা কার্গিলকে ফের পুনর্দখল করে ভারত। বিজয় পতাকা ওড়ায় কাশ্মীরের মাটিতে। ঠিক কীভাবে প্রায় তিন মাস ধরে চলেছিল গোটা অপারেশন, জেনে নিন নিচের স্লাইডে ক্লিক করে।

৩ মে, ১৯৯৯ পাকিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সেনাদের একটি বড় অংশ কার্গিলে ভারতের অংশে ঢুকে এলাকার দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে সেনাবাহিনীর কাছে খবর পৌঁছয়। ৫ মে, ১৯৯৯ ভারতীয় স্থলসেনার একটি দল সেখানে পৌঁছলে পাঁচ সেনা জওয়ানকে আটকে রেখে মেরে ফেলা হয়। ৯ মে, ১৯৯৯ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ভারতীয় সেনাবাহিনীর কার্গিলের ঘাঁটি নষ্ট করে দেয়। ১০ মে, ১৯৯৯ পাকিস্তানিদের অনুপ্রবেশ সবচেয়ে প্রথমে লক্ষিত হয় কার্গিলের দ্রাস, কাকসর, মুশকোহ সেক্টরে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি বড় দল কাশ্মীর থেকে কার্গিলে পৌঁছয়। ২৬ মে, ১৯৯৯ অনুপ্রবেশকারী পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বোমারু হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। ২৮ মে, ১৯৯৯ বায়ুসেনার এমআই-১৭ বিমানটিকে ধ্বংস করে পাকিস্তান। চারজন বায়ুসেনা অফিসার মারা যান। ১ জুন, ১৯৯৯ কার্গিল এলাকায় ভারতের ১ নম্বর জাতীয় সড়কে বোমা বিস্ফোরণ করে পাকিস্তান। ৫ জুন, ১৯৯৯ পাকিস্তানি সেনা এতে জড়িত নয় বলে যে দাবি পাকিস্তান করে আসছিল, তা খারিজ করে দিতে যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ পেশ করে ভারতীয় সেনা। তিনজন পাকিস্তানি সেনার নাম স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়। ৬ জুন, ১৯৯৯ কার্গিল বিজয়রে উদ্দেশ্যে এবার ঝাঁপিয়ে পড়ে ভারতীয় সেনা। ৯ জুন, ১৯৯৯ বিজয়ের প্রথম সোপান হিসাবে কার্গিলের বালাটিক সেক্টরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গার দখল নেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। জুন ১১, ১৯৯৯ পাকিস্তানি সেনা এই ঘটনায় জড়িত তা ফের তথ্য দিয়ে প্রমাণ করে ভারত। পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মুশারফ ও পাক সেনার এক অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ খানের মধ্যে কথোপকথন পেশ করা হয় যাতে স্পষ্ট ছিল, কার্গিলে পাকিস্তানি সেনার জড়িত থাকার কথা। 

১৩ জুন, ১৯৯৯ কার্গিলের দ্রাস এলাকার টোলোলিং সেক্টরও কব্জা করে নেয় ভারতীয় সেনা জওয়ানেরা।

 ১৫ জুন, ১৯৯৯ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে টেলিফোন করে কার্গিল থেকে সরে যাওয়ার কথা বলেন তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিন্টন। ২৯ জুন, ১৯৯৯ ফের কার্গিল এলাকার টাইগার হিলের কাছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট 'পয়েন্ট ৫০৬০' ও 'পয়েন্ট ৫১০০' দখল করে ভারতের বীর জওয়ানেরা।

 ৪ জুলাই, ১৯৯৯ কার্গিল পুনর্দখলে আরও সেনা নিয়ে ঝাঁপায় ভারত। ১১ ঘণ্টার দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৪ জুলাই ১৯৯৯ তারিখে টাইগার হিল এলাকা পুনর্দখল করে ভারত। 

৫ জুলাই, ১৯৯৯ ভারতীয় সেনাবাহিনী কার্গিলের দ্রাস সেক্টরকে পুনরায় দখল করে নেয়। বিল ক্লিন্টনের সঙ্গে কথা বলার পর পাকিস্তানের পিছু হঠার কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। 

১১ জুলাই, ১৯৯৯ পাকিস্তানি সেনারা ভারতীয় সেনাবাহিনীর চাপে পিছু হটতে থাকে। অন্যদিকে একেরপর এলাকা ফের নিজেদের দখলে করতে থাকে ভারতীয় সেনা। 

১৪ জুলাই ১৪, ১৯৯৯ কার্গিল যুদ্ধে পাকিস্তানকে পরাজিত করে ভারতের জয়ের কথা ঘোষণা করেন তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল, 'অপারেশন বিজয়'। 

২৬ জুলাই, ১৯৯৯ কার্গিল এলাকা পাকিস্তানিদের হাত থেকে মুক্ত তা সরকারিভাবে জানানো হয়। পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীদের পুরোপুরিভাবে হঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় ভারতীয় সেনাবাহিনী।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad