অর্ক রায় ,মালদা : গনি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি কলেজের ছাত্ররা সোমবার বিকেলে মালদার গণি খানের মূর্তির পাদদেশ থেকে তারা মালদা শহর জুড়ে এক বিশাল র্যালি করে এবং শেষে মালদার ফোয়ারা মোড়ে পথসভা করে বিক্ষোভ দেখায়। ওই ইনিস্টিটিউট এর পড়ুয়ারা মাথার চুল ন্যাড়া করে ওই বিক্ষোভ দেখায়। ওই কলেজের পড়ুয়াদের দাবি আমরা গনি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি মালদার ছাত্রছাত্রী। আমরা ২০১০-২০১৫ সেশনে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হই। এখানে আমরা যখন এই কলেজে ভর্তি হই তখন এখানে তিন রকম কোর্সের প্যাটার্ন ছিল 2+2+2 বছরের সার্টিফিকেট কোর্স হিসেবে। যা আইটিআই বা দ্বাদশ ভোকেশনাল সমতুল্য।
তাছাড়া ডিপ্লোমা ও দু-বছরের বিটেক-মাধ্যমিক পাশ করে আমরা এখানে ভর্তি হই এবং ভর্তির সময় এখানকার কোর্স প্যাটার্ন অনুযায়ী আমাদের জানানো হয়েছিল যে এখানে একবার সার্টিফিকেট কোর্সে ভর্তি হলে ক্রমান্বয়ে বিটেক পর্যন্ত উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া যাবে বলে ইনিস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ থেকে।
তবে আমাদের মধ্যেই যারা প্রথম ব্যাচে ভর্তি হয়েছিল তারা ছ-বছর পড়াশুনার পর বিটেক পাশ হওয়ার পর রেজাল্ট, সার্টিফিকেটের দাবি করলে তখন আমরা জানতে পারি এই কলেজের কোনও বৈধতা নেই। তারপর আমরা আন্দোলন করলে রাজ্য সরকার ডিপ্লোমা পর্যন্ত বৈধতার অনুমোদন দেওয়া হয় এবং সেই সময়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছিল যে আমাদের মেন্টর ইনস্টিটিউট নিট দুর্গাপুর আমাদের বিটেকের বৈধতা প্রদান করবে। কিন্তু পরবর্তীতে নিট দুর্গাপুর সার্টিফিকেট দেয়নি এভাবেই এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা এগোতে থাকি। ভেবেছিলাম ডিপ্লোমা পর্যন্ত যে সার্টিফিকেট পেয়েছি তা দিয়েই কাজ চালাবো কিন্তু সেটাও হয়ে ওঠেনি কারণ আমাদের মডুলার প্যাটার্নের 2+2+2 এর সার্টিফিকেট কোর্সটি কিসের সমতুল্য সেটা লিখিত কোনো শংসাপত্র আমাদের দেওয়া হয়নি।
ফলে আমাদের দু-বছরের ডিপ্লোমাও কার্যত অবৈধ। ফলে বহু সরকারি সংস্থায় আমরা চাকরি পেয়ে গিয়েও ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনে বাতিল হচ্ছি। এখন আমরা কোনো জায়গায় চাকরির জন্য আবেদন করতে পারছিনা। তাছাড়া সরকারি ও বেসরকারি কলেজ আমাদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তি পর্যন্ত নিচ্ছেনা। তবে চলতি বছরে আমাদের কলেজকে রাজ্য সরকারের কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি বৈধতা প্রদান করলেও তারা আমাদের ইনস্টিটিউট এর পুরোনো ছাত্রছাত্রীদের দায়িত্ব নিতে চাইছেনা। যার ফলে আমরা আন্দোলন করতে এবং বিক্ষোভ করতে বাধ্য হয়েছি। আজকের এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, আশুতোষ কলেজ, শিবপুর কলেজের পড়ুয়ারা।

No comments:
Post a Comment