যেখানে দেবী বরণ করেন মুসলমান পুরোহিত - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 31 July 2018

যেখানে দেবী বরণ করেন মুসলমান পুরোহিত


যেখানে দেবী বরণ করেন মুসলমান পুরোহিত
মরুভূমির শুকনো রূপ আর মীরার কথা এখানে একইসঙ্গে আলোচিত হয়৷ মীরার কৃষ্ণ বন্দনা (মতান্তরে প্রেম) রাজপুতনার চারণ কবিদের অন্যতম অবলম্বন৷ আবার কোনও এক বালি মাখা গ্রামে শোনা যায় সন্ত কবীরের দোঁহা- ‘কৃষ্ণ-করিম এক হ্যায় নাম ধরায়া দোয়ে, কাশী-কাবা এক হ্যায় এক রাম রহিম…’
ধর্মীয় সহাবস্থানের এমনই নজির ছড়িয়ে রয়েছে রাজস্থানের বিভিন্ন প্রান্তে৷ যেমন যোধপুরের ভোপালগড়ের বাগোরিয়া গ্রাম৷ এখানে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন মুসলিমরা৷ এটাই রীতি৷ বাবরি থেকে দাদরি অনেক কিছুই ঘটেছে দেশে৷ সেসব অন্ধকারকে দূরে রেখে বাগোরিয়ার মুসলিম পুজারীরা নিষ্ঠা নিয়ে দেবী বন্দনা ও নামাজ পাঠ করে চলেছেন৷

কতদিন আগের ঘটনা৷  তা কেউ বলতে পারেন না৷ অন্তত ৬০০ বছর ধরে লোকমুখে ছড়িয়ে রয়েছে একটা কাহিনী৷ যেদিন সিন্ধ প্রদেশ (পাকিস্তান) থেকে মধ্য ভারতে আসতে গিয়ে এক ব্যবসায়ী মরুভূমির মধ্যে বিপদে পড়েছিলেন৷ জল ও খাদ্যের অভাবে মরতে বসা সেই সিন্ধি ব্যবসায়ীকে দেবী দুর্গা দেখা দিয়েছিলেন৷ তাঁর আশীর্বাদে প্রাণ বেঁচেছিল সবার৷ পরে দেবীর জন্য একটি মন্দির তৈরি করান ওই ব্যবসায়ী৷ শুরু হয় দুর্গা বন্দনা৷  বংশ পরম্পরায় গত ১২টি প্রজন্ম ধরে এই কাহিনী চলে এসেছে জামালউদ্দিন খানের পরিবারে৷ তিনি বংশের ১৩তম প্রজন্ম৷ দেখেছেন দেশের মাটিতে সাম্প্রদায়িক রঙের ভয়াবহ রূপ৷ আর প্রচলিত কাহিনীকে আঁকড়ে ধরে সেই ভয়াল সাম্প্রদায়িকতাকে ঠেকিয়ে যাচ্ছেন৷

বাগোরিয়া গ্রামের দুর্গা মন্দির একটি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত৷ চারশো সিঁড়ি ভেঙে দর্শনার্থীরা মন্দিরে প্রবেশ করেন৷ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত জামালউদ্দিন খান৷ আসে পাশের সব গ্রামের বাসিন্দারা  তাঁর কাছে অসুর বধের কাহিনী শুনতে আসেন৷ মন্দিরের পাশেই রয়েছে মসজিদ৷ দুর্গা আরতির মতো সেখানেও নিয়মিত নামাজ পাঠ হয়৷  জামালউদ্দিনের ছেলে মেহেরউদ্দিন খান জানিয়েছে, রমজানের সময় একমাস রোজা রাখা যেমন রীতি তেমনই নবরাত্রির সময়  ন দিন উপবাসও পালন করা হয়৷ যুগ যুগ ধরে এই নিয়ম চলে আসেছে৷
ধর্মীয় উসকানিমূলক ইস্যুতে অনেক কিছু ঘটে দেশে৷ সেসব দূরে রেখেই ধর্মীয় সহাবস্থানের নজির তৈরি করে চলেছেন বাগোরিয়াবাসী৷

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad