বকরি ঈদ স্পেশালঃ ওপার বাংলায় ক্রেতা সঙ্কট! - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 22 August 2018

বকরি ঈদ স্পেশালঃ ওপার বাংলায় ক্রেতা সঙ্কট!

বাংলাদেশের অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে শেষদিন ক্রেতা সঙ্কট তৈরি হওয়ার কাঙ্খিত মূল্যে গরু বিক্রি করতে পারেননি বেপারিরা। হাটের প্রথম দুই দিনের চেয়ে অনেক কম মূল্যে তাদের গরু বিক্রি করতে হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গাবতলী, কমলাপুর, নতুন বাজার, মেরাদিয়া ও সায়েদাবাদ পশুর হাট ঘুরে এমন পরিস্থিতিই দেখা গেছে। শেষ সময়ে বেচাবিক্রিতে ভাটা পড়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন বেপারিরা। আগের দিন দাম বেশি উঠলেও আরো বেশি দাম পাওয়ার আশায় তারা গরু বিক্রি করেননি। মঙ্গলবার শেষ বেলায় পরিস্থিতির পরিবর্তন না ঘটায় অনেক কম দামেই গরু ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তারা। অনেক বেপারিকেই তাই লোকশান গুনতে হচ্ছে। চোখেমুখে হতাশার ছাপ নিয়েই তাদের হাট ছাড়তে হয়েছে।
রাজধানীর বারিধারা নতুন বাজারের পশুর হাটে পাবনা থেকে গরু নিয়ে এসেছেন বেপারি জলিল আলী । তিনি বলেন, যে গরু গতকাল ৫০ হাজার টাকা দর উঠেছিল, সেটি আজকে সকালে ৪৫ হাজার টাকা দিতে চাইল, তারপর দুপুরে আরও কমে ৪০ হাজার টাকা বলছে।
জলিল আরো বলেন, ছয় মাস আগে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে যে গরুটি তিনি কিনেছিলেন, সোমবারও হাটে ক্রেতারা ওই গরুর জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিতে চাইছিরেন। কিন্তু মঙ্গলবার দর পড়তে পড়তে মঙ্গলবার দুপুরে ৮০ হাজার টাকার বেশি কেউ দিতে চাইছেন না।
এবার ১৩টি গরু নিয়ে হাটে এসেছিলেন জানিয়ে এই বিক্রেতা বলেন, এখনও দুইটা গরু বিক্রি বাকি। শেষ বেলায় এসে বিপদে পড়ে গেলাম।
রাজধানীর অস্থায়ী গরুর হাটগুলোতে এবার শুরু থেকেই বিক্রেতারা বেশি দাম চাইছেন বলে অভিযোগ করে আসছিলেন ক্রেতারা।চড়া দামেই গত দুই দিনে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে জমজমাট বেচাকেনা হয়।
বেপারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারতীয় গরু না আসায় শেষ মুহূর্তে পশুর সঙ্কটে দাম আরও বাড়তে পারে- এমন আশঙ্কায় অনেকেই সোমবার একটু বেশি দামেই গরু কিনে ফেলেছেন। কিন্তু সোমবার রাতে ঢাকার হাটগুলোতে নতুন করে প্রচুর পশু আসায় দাম পড়ে যেতে শুরু করে।
মঙ্গলবার সকালেও ঢাকার গাবতলী, মেরাদিয়াসহ অন্যান্য হাটে ট্রাকে করে কোরবানির গরু আসতে দেখা গেছে। সেই তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা ছিল কম।
মেরাদিয়া হাটে কুষ্টিয় থেকে আসা বেপারি রহমান মিয়া তার একটি গরু দেখিয়ে বলেন, এই গরুর দাম এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। গতকাল এক লাখ ২০ হাজার উঠছিল, আজকে দাম বলে মাত্র ৮০/৮৫ হাজার।
যে গরুর দাম সোমবার এক লাখ ৬৫ হাজার টাকায় উঠেছিল, বাজার খারাপ বুঝে মঙ্গলবার সেটা এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন দাবি করে এই বিক্রেতা বলেন, এবার আমরা শেষ হয়ে গেছি, প্রতি গরুতে ১০/২০ হাজার টাকা করে লোকসান হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা গরু বেপারী আব্দুর রহিম বলেন, “১৭টি গরু এনেছিলাম। রাত পোহালে ঈদ, কিন্তু এখনও ছয়টা বিক্রি হয়নি। গতকাল যে তিনটা গরুর জন্য দুই লাখ ৩৫ হাজার দাম উঠেছিল, সেটা আজকে দুই লাখ ২০ হাজার দাম বলছে।
সাত বছর ধরে ঢাকায় গরু বিক্রি করছেন জানিয়ে রহিম বলেন, ইন্ডিয়ান গরু না আসার পরও কেন দাম কমে গেল তা বুঝতে পারছি না, নাকি মানুষের হাতের অবস্থা খারাপ?
নতুন বাজারের হাটে কোরবানির পশু কিনতে আসা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, এক ঘণ্টা ধরে বাজারে ঘুরছি, দাম তেমন চড়া মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে আশানুরূপ গরু কিনতে পারব। আগের দিন গরুর দাম চড়া দেখে ফিরে গেছি, তবে আজ দাম বেশ সহনশীল বলে মনে হচ্ছে।
সন্ধার পর রাজধানীর বেশ কিছু হাট থেকে বেপারিদের ট্রাকে গরু তুলে ফিরে যেতেও দেখা গেছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad