টেলিভিশনে খাওয়ার সরাসরি দৃশ্যঃঅভিনব আয়! - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 24 August 2018

টেলিভিশনে খাওয়ার সরাসরি দৃশ্যঃঅভিনব আয়!




যদি কম্পিউটারের ওয়েবক্যামেরাটা চালিয়ে দেন আর আপনার খাওয়া ক্যামেরার মাধ্যমে পৌঁছে যায় অসংখ্য টিভি দর্শকের সামনে- আপনার খাওয়া নিয়ে মন্তব্য আর আড্ডায় মেতে ওঠে আপনার ভক্তকূল- শুধু তাই নয়- আপনার খাওয়ার অভিজ্ঞতা- খাওয়ার ধরন যদি তাদের আনন্দ দেয় আর তারা যদি আপনাকে এর বিনিময়ে পাঠায় শত শত ডলার - তাহলে ব্যাপারটা হয়ত মজাদার হয়ে উঠতে পারে।
এমনটাই হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। রাত বারোটা নাগাদ কম্পিউটার চালিয়ে তাতে ওয়েব-ক্যামেরা লাগিয়ে দুই বন্ধুকে নিয়ে খেতে বসেন তিনি। কোনোদিন খান মসলা মাখানো কাঁচা স্কুইড- অক্টোপাস জাতীয় সামুদ্রিক প্রাণী- কোনোদিন আবার মেনুতে থাকে কাঁকড়া।
কিন্তু আসল ব্যাপারটা হল তিনি কীভাবে খাচ্ছেন- সেটার প্রদর্শন নিয়েই চলে রীতিমত একটা অনুষ্ঠান। নানা মুখভঙ্গী করে - জোরে শব্দ তুলে- মুখে ঝোল টেনে - রসিয়ে রসিয়ে খান তিনি। তার খাওয়ার প্রতিটা শব্দ যাতে ভালভাবে শোনা যায়- কচম্চ করে চিবানোর আওয়াজ যাতে কারো কান এড়িয়ে না যায়- তার জন্য লি চ্যাং-হিউন অনেক অর্থ খরচ করে কিনেছেন শক্তিশালী এক মাইক্রোফোন।
রাতের খাওয়া তার জন্য একান্ত ব্যক্তিগত কোনো ব্যাপার নয়- এটা তার জন্য একটা 'শো'- তার অভিজ্ঞতার ভাগ দেন তিনি প্রতিরাতে ১০ হাজারের ওপর মানুষকে। তার খাওয়া যতক্ষণ চলে ততক্ষণ দর্শকরা তাকে অনবরত কম্পিউটারে মেসেজ পাঠাতে থাকেন- খেতে খেতে এসব মেসেজের জবাবও দেন তিনি।
তার খাওয়ার সঙ্গে সমানতালে চলে বার্তা বিনিময়- প্রশ্নোত্তর আর আড্ডা। দর্শকরা তার খাওয়ার অভিজ্ঞতা দেখে আনন্দ পেলে তাকে কম্পিউটারের পর্দায় ''তারার বেলুন'' পাঠায়। একেকটা তারার বেলুন হল আনন্দের বিনিময়ে একেকজনের কাছ থেকে আসা অর্থের প্রতিশ্রুতি।
লি চ্যাং-হিউন খুলে বলতে চান নি- এভাবে তার প্রতি রাতে রোজগার হয় কত। কিন্তু হিসাব অনুযায়ী দু ঘন্টা ধরে দর্শকদের সঙ্গে খাওয়ার আনন্দ ভাগ করে নিয়ে লি চ্যাং প্রতি রাতে অন্তত বেশ কয়েকশ' ডলার আয় করেন।
খাওয়ার এই অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নাম ''মুকবাং''- কোরীয় ভাষায় খাওয়া হল ''মুকজা'' আর সম্প্রচার হল ''বাং-সং''।
লি চ্যাং-হিউন একা নন, তার মত আরো অনেক ভোজনরসিক- খেয়ে ও টিভিতে খাওয়া দেখিয়ে এভাবে অর্থ উপার্জন করছেন। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ায় টেলিভিশন দেখার ব্যাপারে মনমানসিকতা অনেক বদলেছে। সমাজ বদলাচ্ছে - বদলাচ্ছে বিনোদনের ধরনধারণ।
লি চ্যাং-হিউনের খাওয়ার ''অনুষ্ঠান'' যে টিভি চ্যানেলে দেখা যায় সেটি ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি টিভি চ্যানেল- বিনামূল্যে এই চ্যানেল দেখা যায়- এবং যে কেউ এই চ্যানেলে নিখরচায় তাদের ভিডিও ইত্যাদি অনুষ্ঠানের মত সম্প্রচার করতে পারে।
প্রযুক্তি নির্ভর দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রত্যেক মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন প্রায় চব্বিশ ঘন্টা এবং বিশেষ করে তরুণরা খোঁজেন প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানাধরনের নতুনত্ব।
সুত্র: বিবিসি বাংলা

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad