প্রেমের চিরন্তন কাহিনির কথা বললেই, ইতিহাস আমাদের মনে করিযে দেয় ক্লিওপেট্রা-অ্যান্টনি থেকে শুরু করে রোমিও-জুলিয়েটের কথা৷ কিন্তু এই আধুনিক সময়ে, যখন নাকি ফেসবুকে সম্পর্ক গড়ে ওঠে আর ভেঙে যায় হোয়্যাটস অ্যাপে, তখনও কি জন্ম নিতে পারে কোনও চিরকালীন প্রেমগাথা৷ পারে, অন্তত নিজেদের জীবনে সে কথা প্রমাণ করে দিয়েছেন আমেরিকার লুইসভিলে শহরের ড্যানি রবিনসন ও অ্যাসলে ম্যাকেন্ট্রি৷
মায়ের মুখে এক ব্যক্তির গল্প শুনেছিলেন অ্যাসলে৷ তাঁর কিডনির প্রয়োজন৷ নানারকম দুর্ভাগ্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন মানুষটি-বাবা ব্রেণ ক্যানসারে মারা গিয়েছেন, নিজের বাড়িও ক্রিসমাসের রাতে আগুনে পুড়ে গিয়েছে৷ তার উপর নিজের শরীরও বেহাল৷ অ্যাসলের মা সমব্যাথী হয়ে বলেছিলেন, তাঁর নিজের শরীর ভালো থাকলে, তিনিও ওই যুবককে কিডনি দিতেন৷ মায়ের কথাটা মনে থেকে গিয়েছিল অ্যাসলের৷ তিনি ঠিক করলেন, ওই অপরিচিত যুবকের জীবন বাঁচাতে কিডনি তিনি দান করবেন৷ প্রথমেই নিজের পরিচয় দিতে চাননি৷ ডাক্তারি পরীক্ষায় যখন জানা গেল, অ্যাসলের কিডনি রবিনসনের শরীরে প্রতিস্থাপন করা যাবে, তখনই ওই অপরিচিত যুবকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি৷
প্রতিস্থাপন হয়েছিল সফলভাবেই৷ এখানেই এ কাহিনি শেষ হয়ে যেতে পারত৷ অ্যাসলে চিহ্নিত হতেন একজন সত্যিকার মানুষ হিসেবে৷ তবে নিয়তি বোধহয় তাঁদের জন্য অন্যকিছুই লিখে রেখেছিল৷ বাকি ছিল আরও দেওয়া নেওয়া৷ যাঁক কিডনি শরীরে নিয়ে নতুন জীবন যাপন করতে পারছেন রবিনসন, কিছুদিনের মধ্যেই তাঁকে ভালোবেসেন ফেলেন তিনি৷ আশ্চর্যভাবে তাঁর সে প্রস্তাব গ্রহণ করেন অ্যাসলেও৷ ডেট করতে শুরু করেন তাঁরা৷ প্রণয় গড়ায় পরিণয়েও৷ এখন সন্তানের অপেক্ষায় এই দম্পতি৷
এক অপরিচিতের জন্য যে কাজ করেছিলেন অ্যাসলে, সে ঋণ হয়ত কোনও কিছুতেই শোধ হত না৷ যে ঋণ শোধ হওয়ার নয়, তাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন রবিনসন৷ তাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন, এই ভাঙাগড়া সময়েও জন্ম নিতে পারে প্রেমের ক্ল্যাসিক কাহিনি৷

No comments:
Post a Comment