অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক শেয়াল! - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 5 August 2018

অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক শেয়াল!





এমন মানুষের দেখা মিলছে করাচিতে। সেখানে চিড়িয়াখানায় আছে এই মানুষ, যাঁর অর্ধেক শরীর আবার শেয়ালের। আজব এই প্রাণীকে দেখতে গত ৪০ বছর ধরে নাকি ভিড় উপচে পড়ছে করাচি চিড়িয়াখানায়।
মমতাজ বেগম। করাচির চিড়িয়াখানায় থাকা এমন মানুষের এই নামকরণ করেছেন কর্তৃপক্ষ। মমতাজের শরীরের অর্ধেকটা শেয়ালের। গত চল্লিশ বছর ধরে করাচি চিড়িয়াখানাই ঠিকানা মমতাজের। কী ভাবে মমতাজের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল তা কর্তৃপক্ষ ট্রেড সিক্রেটের মতো চেপে আছেন।
মমতাজকে দেখতে রোজই ভিড় উপচে পড়ে করাচির এই চিড়িয়াখানায়। মমতাজের জন্য আবার বিশেষ ধরনের খাঁচাও বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে মাথায় ঘোমটা দিয়ে দর্শকদের সঙ্গে মোলাকাত করেন মমতাজ। তাঁর সবচেয়ে ভালো লাগে ছোটদের সঙ্গে কথা বলতে। ছোটরা হাজারো রকম সওয়াল করে তাঁর এই বিস্ময়কর চেহারা নিয়ে। মমতাজ দর্শনে টিকিট মূল্য মাত্র ১০ টাকা। ভিড় এতটাই যে তা সামাল দিতে নাভিশ্বাস ওঠে চিড়িয়াখানা কর্মীদের।
এত দিন মৎস্যকন্যা থেকে অশ্বমানুষের কথা শোনা গেছে। যদিও, বাস্তবে এঁদের কারও দর্শন পাওয়া যায়নি। সেখানে শেয়াল-মানুষ! চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে চেপে ধরতেই বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জানা গিয়েছে চিড়িয়াখানার শেয়াল মানুষটি অভিনয় করা। আসলে, বেদির উপরে শেয়ালের চেহারার মডেল রেখে তার মাথার কাছে মমতাজের মাথা রাখা হয়েছে। বেদির নীচে আছে সিক্রেট চেম্বার। যেখান থেকে শুয়ে মাথাটা বেদির বাইরে বের করে দেন মমতাজ। মাথার সঙ্গে ওড়না জড়িয়ে রাখায়া শিয়ালের দেহাংশের সঙ্গে মানুষের দেহাংশের পার্থক্য সহজে ধরা পড়ে না।
বিস্ময়ের আরও বাকি। কারণ, মমতাজ বেগম বলে যাকে ডাকা হচ্ছে তাঁর আসল নাম মুরাদ আলি। ৪০ বছর আগে চিড়িয়াখানায় মমতাজের চরিত্রটি তৈরি করা হয়েছিল। মুরাদের আগে তাঁর বাবা এই কাজ করতেন। বাবার অকাল মৃত্যুতে ১৬ বছর আগে এই কাজ ধরেন মুরাদ। রোজ টানা ১২ ঘণ্টা এভাবেই অর্ধেক মানুষ ও অর্ধেকের শেয়ালের ভূমিকায় অভিনয় করেন মুরাদ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad