মৃন্ময় নস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: ঘন ঘন ট্রলার ডুবি রুখতে জরুরী বৈঠক কাকদ্বীপে । সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে গত জুন মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ট্রলার ডুবি ঘটনায় ২৮ মৎস্যজীবী প্রাণ হারিয়েছেন । এখনও নিখোঁজ ১১ জন মৎস্যজীবী । এত জন মৎস্যজীবী মারা যাওয়ার কারণে উদ্বিগ্ন রাজ্য ও জেলা প্রশাসন। কি ভাবে এই দুর্ঘটনা কে প্রতিরোধ করা যায়, তা নিয়ে ট্রলার মালিক ও মৎস্যজীবীদের সঙ্গে নিয়ে কাকদ্বীপ মহকুমা অফিসে আলোচনা করেন সুন্দরবন বিষয়ক মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা ও জেলা প্রশাসনের মৎস্য বিভাগ, বিডিও সহ আধিকারিকেরা। এছাড়াও সেখানে হাজির ছিলেন উপকূল থানার ওসিরা।
এদিনের বৈঠকে অতিরিক্ত জেলা শাসক মৃণাল রানো, কাকদ্বীপ মহকুমা শাসক রাহুল নাথ দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে মৎস্যজীবীদের প্রশ্ন করেন কেনো বারবার এমন ঘটনা ঘটছে সে ব্যাপারে ট্রলার মালিক ও মৎস্যজীবীদের মতামত জানতে চান তারা। মৎস্যজীবীরা অনেকেই বলেন সাগরে মাছ ধরার সময় দুর্ঘটনা ঘটছে না। উপকূলে ফেরার সময় মোহনার কাছে দুর্ঘটনা ঘটছে। মৎস্যজীবীরা চারটি চ্যানেল দিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। এই চারটি চ্যানেল হলো জম্মুদীপ, হরিপুর, সীতারামপুর ও কেঁদো দ্বীপ। এই চারটি চ্যানেল এর নাব্যতা অনেক কমে গিয়েছে ট্রলার গুলি যখন সাগর থেকে তাড়াহুড়ো করে ওই চ্যানেল দিয়ে উপকূলে দিকে আসছে সেই সময় চরাটা বুঝতে পারছেনা। ফলে সেই চরাতে লেগে উল্টে যাচ্ছে। প্রতিটি দুর্ঘটনার সময় এমনটাই ঘটছে বলে জানায় মৎস্যজীবীরা। এদিনের আলোচনা সভাতে মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার বিষয়টি উঠে আসে। প্রশাসনের আধিকারিকদের অনেকেই বলেন মৎস্যজীবীদের লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা অধিকাংশই ব্যবহার করে না। এটা বাধ্যতামূলক ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি বেশি ট্রলার এর অবস্থান জানার জন্য ট্রাকিং মেশিন লাগানো ও যোগাযোগ করার জন্য উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ওয়ারনেস ও রেডিও তে দু ঘন্টা অন্তর বুলেটিন প্রচারের প্রস্তাব দেন মৎস্যজীবীরা। সভায় ঠিক হয় আগামী দিনে কাকদ্বীপ ও নামখানা মৎস্যজীবীদের বিশেষ ট্রেনিং দেওয়া হবে। যাতে করে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কিভাবে নিজেদের বাঁচাতে পারবে। সাগরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষের রুজি রোজগার। এখানকার অর্থনীতি এই মাছ ধরা ও তাকে ঘিরে জড়িয়ে জড়িয়ে রয়েছে। সভাবতই রাজ্য সরকার এব্যাপারে যথেষ্ট সহানুভূতিশীল।

No comments:
Post a Comment