‘এই হারে লজ্জার কিছু নেই, যথেষ্ট লড়াই করেছি’ - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 5 August 2018

‘এই হারে লজ্জার কিছু নেই, যথেষ্ট লড়াই করেছি’





এশিয়ার প্রথম দল হিসেবে এজবাস্টনে টেস্ট জয়ের গল্প লেখা হলো না ভারতের। শনিবার বেন স্টোকসের বোলিং তোপে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ভারতের ব্যাটিং লাইন আপ। নিজের তৈরি করা মঞ্চে দুর্দান্ত কোহলিও পারলেন না ম্যাচ শেষে জয়ীর হাসি হাসতে।

বুক ফুলিয়ে না ঢুকলেও সাংবাদিক সম্মেলনে এসে রবিচন্দ্রন অশ্বিন বলতে শুরু করলেন, এই হারে লজ্জার কিছু নেই। আমরা যথেষ্ট লড়াই করেছি। আমরা তো ভেঙে পড়িনি। এখনও ৪টি টেস্ট ম্যাচ বাকি আছে। লম্বা সময় ধরে চলবে ওই ৪টি টেস্ট। ফলে অনেক কিছু ঘটতে পারে। আমরা আশাবাদী, চাকা উল্টোদিকে ঘোরাতে পারব।

অশ্বিন সত্যিই কিন্তু নিজেকে প্রথম টেস্টে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, তিনি নতুন করে আবার যেন তৈরি করেছেন এবং বিদেশের মাঠে পারেন না, এই তকমাটাও যেন ছুঁড়ে ফেলে দিতে চাইছেন।

‘‌আমাদের এখন একটু থিতু হওয়ার সময় দিন। একটু মেন্টাল স্পেসের দরকার। এটুকু বলতে পারি, চেষ্টার কোনও ত্রুটি আমরা রাখিনি। একই সঙ্গে যেটা জরুরি, তা হল, চেষ্টা করে যাওয়া এবং শেখা। সেটা আমরা চেষ্টা করেছি মেনে চলার। একই সঙ্গে এটাও তো মানবেন, স্পিন বোলারদের জন্য এই পিচ মোটেই সহায়ক ছিল না। তা সত্ত্বেও আমরা চেষ্টা করে গিয়েছি।‌ এ সব কথা বলার অর্থ এটা নয় যে, আমি বা আমরা খুব স্মার্ট হতে চাইছি। পারিনি, সেটা তো মেনে নিতেই হবে। তবে এখনই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে না। এই ব্যর্থতাই শেষ কথা নয়। আবার আমরা ঘুরে দাঁড়াব। প্লিজ গিভ আস সাম টাইম।

মেনে নিলেন যে, গত দু–‌তিন বছরে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে এসে অবশ্যই তিনি উপকৃত হয়েছেন।বলেন, হ্যা, সত্যিই তাই, শেখার কোনও শেষ নেই। এই যে আমরা এখানে ডিউক বলে খেলছি, এই বলে তো ভারতে খেলা হয় না। অস্ট্রেলিয়ায় যেমন খেলতে হয়ে কোকাবুরা বলে, ভারতে এসজি বলে। তো, নতুনভাবে মানিয়ে নিতে হয় ডিউক বলের সঙ্গে। এটা অত্যন্ত কঠিন কাজ। আমার কাছে যদি জানতে চায় কেউ, কেমন বলে খেলা উচিত, আমার প্রথম পছন্দ হবে ডিউক বল। তারপর কোকাবুরা। দেখতে গোল হলে কী হবে, এক-একটা কোম্পানির তৈরি বল এক-একরকম। অনুভূতি অন্যরকমের হয় গ্রিপ করার সময়। তাই, আমাদের সবাইকেই অ্যাডজাস্ট করতে হয় অনেকটাই।

এডিলেড টেস্টের যে সেঞ্চুরিটার কথা বিরাট বলে থাকেন, সেই টেস্টেও কিন্তু ভারত হেরেছিল। এখানেও বিরাটের সেঞ্চুরি কাজে এল না। এডিলেড এবং এজবাস্টন টেস্টের মধ্যে কোন পরাজয়ে বেশি বেদনা পেয়েছেন?‌ একটু ঘুরিয়ে উত্তর দিলেন অশ্বিন।

‘‌দুটি ক্ষেত্রেও তো হারতে হয়েছে। লম্বা টেস্ট সিরিজ। এত অধৈর্য হয়ে পড়বেন না। আমরা ঠিকই জেতার রাস্তায় ফিরব।’‌

অশ্বিন জানান, এদিন সকালে যখন ৮৪ রান তোলার লক্ষ্য ছিল, তখন হাডলে সবাই মিলে একসঙ্গে থাকার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। একে-অন্যের ব্যর্থতা ঢাকার ব্যাপারে অঙ্গীকার করেছিলাম।

পরক্ষণেই তিনি যোগ করলেন, ম্যাচটা জিততে পারলে একটা স্পেশাল ব্যাপার-স্যাপার হত। সামথিং রিয়েলি স্পেশাল। আসল কথা কি জানেন, আমরা পারব এই আত্মবিশ্বাসটা থাকা জরুরি। একসঙ্গে থাকার সঙ্গে সঙ্গে এই মানসিকতাটাও দরকার।

এই টেস্টে তিনি যেভাবে বোলিং করলেন, তাতে ইংরেজরা নাকি ভয় পাচ্ছেন তাকে, এটা পরিষ্কার। নিজেকে নতুন করে বিদেশের মাঠে প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে নিজের বিশেষ কোনও অনুভূতি আছে কি?‌

এবার ম্লান হেসে অশ্বিন বললেন, আমার আবার নতুন-পুরনো। এক-একটা ম্যাচ শেষ হয়, ভালো বোলিং করা সত্ত্বেও থেকে যাই পুরনো জায়গাতেই। আবার নতুন করে শুরু করতে হয়। তাই, নিজেকে পুনরাবিষ্কার করতে হয় প্রতি ম্যাচেই। বিশেষ কোনও অনুভূতি হয় না।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad