ইংরেজদের সাথে আলোচনারত গান্ধী
মহাত্মা গান্ধী বুঝেছিলেন তিনি ভগত সিং এর মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে লঘুদণ্ডের দাবী করলে সেটি দেশের বৃহত্তর স্বার্থের পরিপন্থী হবে। করাচিতে কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পূর্বেই যত দ্রুত সম্ভব ভগত সিং এর ফাঁসি কার্যকর করার বিষয়ে গান্ধী তার নিজের লেখায় উল্লেখ করেছেন। গান্ধীর লেখা থেকে নীচে অংশবিশেষ তুলে ধরা হলঃ
এ প্রসঙ্গে গান্ধী নিজে “তরুণ ভারতে” লিখেছেন, “আমি হয়তো বিষয়টি নিষ্পত্তি করার একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দণ্ড লঘু করার প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারতাম। কিন্তু এটি করা সম্ভব হত না। এ ব্যাপারে কার্যসভা আমার সাথে একমত পোষণ করেছে যে সাময়িক শান্তিচুক্তির নজির হিসেবে দণ্ড লঘু করার প্রস্তাব পেশ করা সঠিক হবে না। তাই আমি বিষয়টি কেবল উল্লেখই করতে পারতাম।”
সুতরাং, এতে দেখা যায় যে, মহাত্মা গান্ধী যদি চাইতেন তাহলে দণ্ড লঘু করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উত্থাপন করতে পারতেন। ভাইসরয় এর কাছে গান্ধী প্রার্থনা জানিয়ে বলেছিলেন, “ছেলেগুলোকে যদি ফাঁসি দিতেই হয়, তবে তা করাচির কংগ্রেস অধিবেশনের পরে না দিয়ে পূর্বেই যেন দেওয়া হয়”- সুতরাং তার পক্ষ থেকে ভগত সিং ও তার কমরেডদের মৃত্যুদণ্ড লাঘবের চেষ্টা করার বিষয়টি প্রত্যাশা করা যায় না। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যে, লাহোরের সর্ব ভারতীয় ভগত সিং, রাজগুরু ও সুখদেব স্মৃতিরক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে গান্ধীর কাছে এই তিন জাতীয় বীরের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের বিষয়ে গান্ধীর সহযোগিতা কামনা করলে তিনি কমিটির সাধারণ সম্পাদককে এ বিষয়ে সহযোগিতা প্রদানের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানান।
সূত্রঃ “History of the National Congress”
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ ১৯৩১ সালের ২৩শে মার্চ লাহোরে রাজগুরু ও সুখদেব সহ ভগত সিং এর ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তাঁর মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত সমর্থকরা তাঁকে ‘শহীদ’ উপাধিতে ভূষিত করে। ভগত সিংকে সুতলেজ নদী তীরে হুসেইনিওয়ালায় সমাধিস্থ করা হয়। বর্তমানে ভগত সিং এর স্মৃতিসৌধটি ভারতের মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি নিবেদিত।



No comments:
Post a Comment