অর্ক রায়, মালদা: সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং মৎস্য দপ্তরের কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও মালদার বিভিন্ন বাজারে চলছে দেদার ছোট ইলিশ বিক্রি। শহরের চিত্তরঞ্জন পৌর বাজার বিচিত্রা মার্কেট মকদমপুর সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি নির্দেশ কে কার্যত বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দেদার বিকোচ্ছে খোকা ইলিশ। ২০০ থেকে ৪০০ গ্রামের এই ইলিশের চাহিদাও ব্যাপক। মূলত গ্রাম অঞ্চল ইলিশের বিরাট চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মালদার বিভিন্ন পাইকারি বাজারেও বিপুল পরিমাণে এই খোকা ইলিশের আমদানি হচ্ছে। সেখান থেকেই ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এই ইলিশ পৌঁছচ্ছে গৃহস্থদের ঘরে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মালদার ইংরেজবাজার নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির এক পাইকারি মাছ বিক্রেতা জানালেন, মূলত দক্ষিণবঙ্গের হাওড়া, দীঘা ডায়মনহারবার সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মালদায় আসছে এই ছোট ইলিশ। যা বাজারে বিক্রি হচ্ছে 'ফরাক্কার ইলিশ' নাম দিয়ে। এক্ষেত্রে জেলা মৎস্য দপ্তর এর বক্তব্য তারা মালদার বিভিন্ন বাজারে মৎস্য দপ্তরের নির্দেশিকা টাঙিয়ে সচেতন করার চেষ্টা করছেন ।ব্যবসায়ীদের ছোট ইলিশ রাখা ,বিক্রি করা এমনকি পরিবহন করা ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবুও কিভাবে প্রকাশ্যেই অবাধে চলছে এই খোকা ইলিশ বিক্রির কাজ? উত্তরে মালদা জেলার এক মাছ ব্যবসায়ীর বক্তব্য ,'বাজারে পাওয়া যাচ্ছে তাই আমরা সেখান থেকে কিনে বাজারে বিক্রি করছি। এতে আমাদের কিছু করার নেই, যদি সত্যিই এই ইলিশ বিক্রি বন্ধ করতে হয় তাহলে বাজারে না ঘুরে এই ইলিশ ধরায় বন্ধ করুক সরকার।'
ক্রেতাদের চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে কোনও ব্যবসায়ী সরকারি নিষেধাজ্ঞার দিকে নজর দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ। ফলে লাভের আশায় ,এই রুপালি শস্যের আগামী দিনের বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। বিভিন্ন বাজারে এই খোকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে সাড়ে ৩৫০ টাকা দরে। ফলে ক্রেতার অভাব ঘটছে না। ছোট বা খোকা ইলিশ বিক্রি করলে ক্রেতা এবং বিক্রেতা দুজনেরই জরিমানা হওয়ার নিয়ম আছে। কিন্তু যাদের এই বিষয়টি দেখা দরকার অর্থাৎ জেলা মৎস্য দপ্তর এ ব্যাপারে উদাসীন বলেই অভিযোগ।
এ ব্যাপারে মালদার মৎস্য দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর পার্থপ্রতিম দাস বলেন আমরা ব্যবসায়ীদের বোঝানোর চেষ্টা করছি পাইকারি আরও বলা হচ্ছে ছোট ইলিশ বিক্রি না করতে। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা না মেনে এই সমস্ত খোকা ইলিশ বিক্রেতা এবং আরতদার, ওদের বিরুদ্ধে দপ্তরের তরফ থেকে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি পার্থপ্রতিম বাবু।
এব্যাপারে মালদার ইংরেজবাজার পৌরসভার পৌর প্রধান নিহার রঞ্জন ঘোষ জানান, 'বিষয়টি উদ্বেগের, আমরা আগামী দিনের মৎস্য দপ্তরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো। প্রয়োজনে পৌরসভার পক্ষ থেকে মৎস্য দপ্তরকে সাথে নিয়ে যৌথ অভিযান চালানো হবে।'


No comments:
Post a Comment