ভিন রাজ্যে মালদহের শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যু! চাঞ্চল্য - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 3 August 2018

ভিন রাজ্যে মালদহের শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যু! চাঞ্চল্য


অর্ক রায়, মালদা : পাঞ্জাব এ কাজ করতে গিয়ে মৃত মালদার শ্রমিক।মালদহের চাঁচল থানার রাণীকামাত গ্রামের বাসিন্দা ওই শ্রমিকের মৃতদেহ আজ তাঁর বাসভবনে নিয়ে আসা হয়েছে ।
পরিবারের আশংকা , খুন করে গলায় ফাঁস আটকে মৃতদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ।
জানা গেছে , মৃতের নাম সাইফুল ( ৪৬ )।
মৃত ওই শ্রমিকের বাবা মফিজুদ্দিনের আশংকা , খুন করে গলায় ফাঁস আটকে তাঁর ছেলের মৃতদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
তাঁর কথায় , রহস্যজনক খুনের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হোক ।
তিনি আরও বলেন , “ পাঞ্জাবের মোহালিতে নিচু একটা ঘরে ছেলে থাকত । নিচু ঘরে কিভাবে সে ফাঁসি নিল | আমার ছেলেকে খুন করে গলায় ফাঁস আটকে ওই ঘরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় । ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হোক | ”
স্থানীয় সিটু নেতা মমতাজ হোসেন বলেন , “ সাইফুল আত্মহত্যা করেনি । তাকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় । সরকারের কাছে রহস্যজনক ওই খুনের ঘটনার তদন্ত করার দাবি জানাচ্ছি ।”
তিনি আরও বলেন , “ দেহটি লোপাট করারও চেষ্টা করা হয় বলে অভি্যোগের কথা শুনেছি । সিটুর তরফে সেখানকার নেতৃত্বের কাছে জানান হয় । সেখানকার সিটু নেতৃত্ব সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় ।ময়নাতদন্তের পর পাঞ্জাব পুলিশ মৃতদেহটি তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেয় | ”
ফোনে মোহালির সিটুর সাধারণ সম্পাদক দীনেশ প্রসাদ বলেন , “ মালদার সিটুর নেতৃত্বের তরফে ফোন করে আমাদের জানান হয় । পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয় । ময়নাতদন্তের পর পাঞ্জাব পুলিশ মৃতদেহটি তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেয় । এখানে তাঁর ছেলে, মেয়ে ও জামাই এসেছিল ।” জামাই রোজ আলম বলেন , “ প্রথমে তো সেখানকার পুলিশ আমাদের পাত্তাই দিচ্ছিল না । মৃতদেহ দেখতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয় । যে ঘরে তিনি থাকতেন সেই ঘরে ফাঁসি লাগান সম্ভব নয় । তাঁকে খুন করা হয়েছে । পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি , ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হোক ।”
চাঁচলের বাম যুবনেতা জিয়াউল আনসারি বলেন , “ রহস্যজনক ওই খুনের ঘটনার তদন্ত করার দাবি জানাচ্ছি ।”
ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে মৃত ওই শ্রমিকের পরিবার । মৃত ওই শ্রমিকের বাবা মফিজুদ্দিন বলেন , “ পাঞ্জাব পুলিশের কাছে খুনের অভিযোগ জানাব ।”
চাঁচলের এস ডি পি ও বলেন , “ যদিও অন্য রাজ্যের ঘটনা । তবে ওই পরিবারটি আমাদের সহযোগিতা চাইলে তা করা হবে । পি এম রিপোর্টও জরুরি ।”
এই রাজ্যের শাসক দলের পক্ষ থেকেও ওই পরিবারটিকে সবরকমভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ।
মৃত ওই শ্রমিকের পরিবারের সূত্র থেকে জানা গেছে , পাঞ্জাবে তিনি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন | ওই রাজ্যের এস এস নগর ( মোহালি ) জেলার ফেজ ৯-র ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ায় তিনি থাকতেন | রাজমিস্ত্রি হিসেবে ওই এলাকাতে কাজ করতেন | মাস তিনেক আগে বাড়িও এসেছিলেন তিনি | সোমবার সকালে তাঁর পরিবারের লোকেরা তাঁর মৃত্যুর খবর পান | তাঁর এক ছেলে ও জামাই মেয়ে ছুটে যায় | তাঁরা দিল্লীতে কাজ করেন | পাঞ্জাব পুলিশ প্রথমে তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ | পরে সেখানকার বামপন্থী সংগঠন সিটু নেতৃত্ব সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় | ওই শ্রমিকের মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠান হয় | ময়নাতদন্তের পর পাঞ্জাব পুলিশ মৃতদেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেয় | তাঁর দেহটিকে এদিন গ্রামের বাড়ি রাণীকামাতে নিয়ে আসা হয় । পার্শ্ববর্তী নগাছিয়া কবরস্থানে শেষকৃত্য করা হয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad