রাজপরিবারের নরমাংস ভক্ষণ - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 18 August 2018

রাজপরিবারের নরমাংস ভক্ষণ




ব্রিটিশ রাজপরিবার সারাবিশ্বে সকল যুগেই যেসব ক্ষেত্রে বিশেষভাবে খ্যাতিসম্পন্ন সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অত্যন্ত জৌলুসপূর্ণ এবং বিলাসবহুল রাজকীয় খাবারদাবার ও ভোজসভা। কিন্তু সম্ভবত একটা বিষয় অনেকেরই অজানা। আর তা হল ব্রিটিশ শাসকবর্গ নরমাংসেরও স্বাধ নিয়েছিলেন। তবে সেটা আজ থেকে প্রায় তিনশ বছর আগের ঘটনা।
২০১১ সালে ওষুধি নরমাংস ভোজন বিষয়ক প্রকাশিত একটি বইতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। বইতে বলা হয়, ১৮ শতকের শেষের দিকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের কয়েকজন মানুষের শরীরের কিছু অংশ আহার করেছিলেন। বইটির লেখক ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রিচার্ড সাগ বলেন, নরমাংস খাওয়ার এই চর্চা শুধুমাত্র রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং এটা তখন সমগ্র ইউরোপের সচ্ছল পরিবারের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল।
ড. সাগ আরও বলেন, ইংল্যান্ডের রানী দ্বিতীয় মেরী এবং তার চাচা রাজা দ্বিতীয় চার্লস উভয়েই মৃত্যুশয্যায় মানুষের মাথার খুলির কিছু অংশ খেয়েছিলেন। রানী দ্বিতীয় মেরী ১৬৯৮ সালে আর রাজা দ্বিতীয় চার্লস ১৬৮৫ সালে নরমাংসের ওষুধি গুণের কথা ভেবে তা ভক্ষণ করেছিলেন। তখন রাজপরিবারে মৃত সৈন্যদের খুলি থেকে নেয়া শৈবাল নাকের রক্তপড়া চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হত। যদিও নতুন বিশ্বকে তারা বর্বর বলে আখ্যায়িত করেন কিন্তু তারাই মিশরীয় মমিচূর্ণ, মানুষের চর্বি, মাংস, হাড়, চামড়া সবই তাদের গায়ে বয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও লিখেছেন ড. সাগ তার এই বইয়ে। ডাঃ সাগের দাবি, মানুষের শরীরের মাংস, হাড় ও রক্ত ভেষজ উপাদান হিসাবে রোগের চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। নরমাংস ভক্ষণ প্রথা যদিও অনেকেই নতুন বিশ্বের একটা অভিশাপ বলে আখ্যায়িত করেন কিন্ত ইউরোপে এর বিস্তার অনেক আগেই হয়েছিল।
বইতে অভিযোগ করা হয়, রাজা দ্বিতীয় চার্লসের এই নরমাংসের বিষয়টিকে সাহিত্য এবং ইতিহাস গ্রন্থে এড়িয়ে চলা হয় সবসময়। কিন্তু এর সত্যতাকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। শুধু রাজা দ্বিতীয় চার্লসই নন এই তালিকায় রাজা প্রথম চার্লস, রানী প্রথম এলিজাবেথ, তৃতীয় উইলিইয়াম, এলিওজাবেথ গ্রেই, কেন্ট, রবার্ট বয়েল, টমাস উইলিস, তৃতীয় উইলিয়াম, রানী মেরীসহ আরও কয়েকজনের নামও এসেছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad