‘আর যাই হোক সৃজিতের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়াটা হবে না’ - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 3 August 2018

‘আর যাই হোক সৃজিতের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়াটা হবে না’





এক সময়ে সৌন্দর্যের জন্য মাত করেছিলেন ইন্দ্রানী দত্ত। ইন্দ্রানীর মেয়ে রাজনন্দিনীও সৌন্দর্যে পাল্লা দিচ্ছেন। রাজনন্দিনী এখন শুধু ইন্দ্রানী দত্তের মেয়েই নন। টালিউডে ইতিমধ্যেই তিনি নিজের পরিচয় তৈরি করে ফেলেছেন।  সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম নিউজআঠারকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রাজনন্দিনী।

আজ তো রেজাল্ট? ভয় করছে?

হুমমম। ভয় তো করছেই।

প্রথম ছবি ‘উড়নচণ্ডী’ কেন? নাচ, গান নেই, বিদেশের লোকেশন নেই....

কারণ এভাবে ডেবিউ করাটা ভাগ্যের ব্যাপার। সবাই এই সুযোগ পায় না। এটা আমার জন্য খুব স্পেশ্যাল। একদম অন্যভাবে। বিদেশে নেই তো কী হয়েছে? আমাদের বাংলা তো রয়েছে। আর নাচ, গানটা বড়ো ব্যাপার নয়।

তবু প্রথম ছবিতেই এরকম একটা ডি-গ্ল্যাম চরিত্র, নায়িকা-নায়িকা ব্যাপারটা তো নেই।

দেখো এটা ঠিক যে ‘উড়নচণ্ডী’তে ওরকম নায়িকা সুলভ ব্যাপারটা নেই।ছবিতে সবাই মুখ্য চরিত্র, সবাই নায়িকা।ছবিটা তাদের নিয়ে যাদের কথা সমাজে খুব কম হয়।

মায়ের সঙ্গে তুলনা তো হবেই...

মায়ের সঙ্গে তুলনা হলে তো ভালই লাগবে। মা যে জায়গাটায় পৌঁছেছেন সেখানে তো আমিও পৌঁছাতে চাই।

মা কী টিপস দিল?

প্রতিটা শট ধরে ধরে মা টিপস দেননি৷ কখনও বলেননি, এই জায়গাটায় ওইভাবে কাঁদতে হবে, ওইভাবে হাসতে হবে৷ কিন্তু মায়ের গাইডেন্স সব সময় পেয়েছি৷ সেটা সবদিক থেকেই৷ মা অনেক কিছু নিয়ে বুঝিয়েছেন৷ সাহায্য করেছেন৷ তাছাড়া টুম্পা দি (সুদীপ্তা চক্রবর্তী)র কাছে যখন যাচ্ছি তখন মা খুব নিশ্চিন্ত ছিল৷ মা তো সব সময় টুম্পাদিকে বলত, ‘তোমার কাছে যাচ্ছে যখন আমার আর কোনও চিন্তা নেই৷’

শ্যুটিংয়ে মা যেতেন?

না৷ কখনও যেতে দিইনি৷ মা যেতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু মায়ের সামনে নার্ভাস হয়ে যাব বলে যেতে বারণ করেছিলাম৷ বলেছিলাম, তুমি একেবারে ৩ তারিখেই দেখো৷

বাংলার সমস্যাটা কাটিয়ে উঠলে কীভাবে?

সবটাই মায়ের ক্রেডিটে৷ আমাকে বাংলা বলতে উৎসাহ দিতেন৷ সময় পেলেই গীতবিতান নিয়ে বসতেন আমার সঙ্গে৷ সেখান থেকে আবৃতি করতাম আমি৷ বাংলা খবরের কাগজ পড়াতেন৷

প্রথম ছবিতেই জাতীয় পুরস্কার পাওয়া অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ.. চাপে পড়েছিলে নাকি?

খুব চাপে ছিলাম৷ যখন শুনলাম সুদীপ্তা চক্রবর্তী, চিত্রা সেনদের সঙ্গে কাজ করব..নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম৷ কিন্তু ‘দে ওয়্যার অ্যামেজিং’৷ এত সহজ করে দিয়েছিলেন ব্যাপারটা৷ তাছাড়া শ্যুটিং শুরুর আগে ৬-৭ মাস আমরা নিয়ম করে ওয়ার্কশপ করেছি৷ সেটাই খুব কাজে এসেছে৷ আমরা কিন্তু প্রথমেই স্ক্রিপ্ট হাতে পাইনি৷ শ্যুটিং শুরুর কয়েকটা দিন আগে সেটা পেয়েছিলাম৷

পরিচালক কী বলছেন?

আমাদের ডিরেক্টর ইজ অ্যা ম্যান অব ফিউ ওয়ার্ডস৷ শট ওকে হলেও অভিষেকদার মুখে কোনও রিঅ্যাকশন থাকত না৷ আমরা কিছু শোনার আশায় যেতাম৷ আর টুম্পা দি সেটা ব্যালেন্স করে দিত একটা একশো ওয়াটের স্মাইল দিয়ে৷

এক্ষেত্রে কম্পিটিশনটা কি অমর্ত্যর সঙ্গে ছিল? দু’জনেই নিউকামার...

না৷ আমরা দু’জেনই প্রথমত খুব ভয়ে ভয়ে ছিলাম৷ আর কম্পিটিশন সবসময় নিজের সঙ্গেই ছিল৷

অভিনয়ে ডেবিউ হল, প্লেব্যাকও করেছ, তাও আবার মায়ের লিপে৷ ইন্দ্রানী দত্তের মেয়ে নাচ নিয়ে কী কিছু নিয়ে আসবে আমাদের সামনে?

দেখো অভিনয় তো সবে শুরু করলাম৷ কিন্তু নাচ,গান তো সেই কোন ছোটবেলা থেকে করছি৷ আই থিঙ্ক নাচ, গান উইল অলওয়েজ বি পার্ট অব মাই লাইফ৷ নাচ নিয়ে তেমন কোনও সুযোগ এলে তো অবশ্যই করতে পারলে ভালই লাগবে৷

সৃজিতের ছবি আগে মুক্তি পেলে কী বেশি খুশি হতে?

দেখো দু’টো ছবিই আমার খুব কাছের৷ ওটা আগে মুক্তি পেলেও একইভাবে খুব খুশি হতাম৷ তবে এখানে আমার স্কোপটা অনেক বেশি৷ অ্যাক্টর হিসাবে এখানে অনেক বেশি দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি আমি৷

কতটা রাজনন্দিনী আর কতটা তারকা রাজনন্দিনী?

আমি পুরোপুরি রাজনন্দিনী (লাজুক হেসে)৷ তারকা-টারকা নই৷

আজকের পর থেকে কী এটা পাল্টে যাবে?

যদি আসেও সেটা ইনটেনশনালি আসবে না৷ হয়তো চারপাশের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে৷ তবে তারকা হওয়ার মতো কোনও ভাবনা এখন আমার নেই৷

 ‘মিনু’ (‘উড়নচণ্ডী’তে রাজনন্দিনীর চরিত্রের নাম) তোমার থেকে কতটা আলাদা?

একদমই আলাদা৷ আমি, আমার লাইফস্টাইল, আমার ভাবনাচিন্তা, পরিবেশ কিছুই মেলে না ‘মিনু’র সঙ্গে৷ আমি পুরোপুরি শহুরে, আর ‘মিনু’ প্রত্যন্ত গ্রামের একটা মেয়ে৷ আর এই জন্যই ওয়ার্কশপটা কঠিন ছিল৷ নিজেকে ভেঙে অন্য করাও মতো ভাবা, তার মতো আচরণ করা, তার মতো করে জীবনটাকে দেখা... ব্যাপারটা কঠিন, কিন্তু বেশ মজারও৷ গ্রাম্য বাংলা আর ভোজপুরী মেশানো একটা মিশ্র ভাষায় কথা বলে ‘মিনু’৷ সেই ভাষাটাও শিখতে হয়েছে আমাকে৷ এর আগে আমি কোনওদিন গ্রাম দেখিইনি৷ তাই চাপ তো ছিলই৷

কতটা বকা খেয়েছ?

বকা আমরা কেউ খাইনি৷ সবাই কাজের সময় কাজ, মজার সময় মজা, এভাবেই সবটা হয়েছে৷

এখন তো অনেক বড় বড় অভিনেতাদেরও মাঝেমধ্যেই ধারাবাহিকের পর্দায় দেখছি৷ টেলিভিশনে দেখা যাবে তোমাকে?

এখনও এটা নিয়ে ভাবিনি৷ খুব ভাল কনটেন্ট পেলে হয়তো আসবো৷ তবে এখন আমার পুরো ফোকাশ ফিল্মেই৷

আর বলিউড?

ভাল ফিল্ম করতে চাই৷ ভাল চরিত্র পেলে বলিউড, সাউথ ইন্ডিয়া যেখানে খুশি যেতে পারি৷

‘মিনু’র মতো রিয়েল লাইফে বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে যেতে কেমন লাগবে?

খারাপ হবে না ৷ ভালই তো বেশ৷ অ্যাডভেঞ্চার হত৷

মা তো খুব বকত৷

হ্যাঁ, বাট.. আমি তো তখন পালিয়ে যাব, সো....

এমন কী কেউ আছে যাঁর সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া যায়?

না গো, এখনও তেমন কেউ আপাতত নেই...

আর সৃজিত? অনেক কথা তো শুনছি...

 (আঁতকে উঠে) না না, ওনার সঙ্গে আর যাই হোক পালানোটা হবে না৷

প্রথম ছবি... আর প্রথম থেকেই সম্পর্কের গুঞ্জন ৷ কীভাবে হ্যান্ডেল করছ?

আজ একজনকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, কাল অন্য কাউকে নিয়ে হবে৷ আর আলোচনা হওয়া মানে তো আমি চর্চায় রয়েছি (হাসি)৷

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad