পরিবহন মন্ত্রীর নাম করে চুঁচুড়ার একটি টোটো প্রস্তুতকারী সংস্থার কাছ থেকে তোলা নিতে আসা যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিস। শুক্রবার দুপুরে চুঁচুড়ার খাদিনা মোড়ের কাছে এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিস জানিয়েছে ধৃতের নাম তমাল বন্দ্যোপাধ্যায়। ধৃতের বিরুদ্ধে পুলিস তোলাবাজি ও প্রতারনার মামলা রজু করেছে। দিনের বেলায় পরিবহন মন্ত্রীর নাম করে তোলাবাজি ও প্রতারণার খবর চাউর হতেই শহরে ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তকে দেখার জন্য থানার সামনে বহু ব্যবসায়ী ভিড় জমান।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬ আগষ্ট চুঁচুড়ার একটি টোটো প্রস্তুতকারী সংস্থার অন্যতম অংশীদার শেখ নাসিরের মোবাইলে ফোন আসে। ফোনটি ধরার পর অপর প্রান্ত থেকে পরিবহন দপ্তরের সচিব পরিচয় দিয়ে এক ব্যাক্তি কথা বলেন। তিনি বলেন, পরিবহন মন্ত্রী তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান। এরপর ফোনের অপরপ্রান্তে পরিবহনমন্ত্রীর কন্ঠ নকল করে বেশ কিছুক্ষন কথা বলেন। এরপর চন্দননগরে একটি আন্তরজাতিক চলচিত্র উৎসব হবে ও তার জন্য ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলেন। নাসিরসাহেব জানান, আমি ছোটো একজন ব্যবসায়ী তাই এত টাকা আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। এরপরেই মন্ত্রী সেজে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে কথাবলা ব্যাক্তি ব্যবসা বন্ধের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ। নাসিরসাহেব বলেন, ফোনে কথা বলার সময় বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আমি কথোপকথন রেকডিং করে রাখি। পরের দিন দুপুরে কাজল ভৌমিক নামে এক ব্যক্তি নিজেকে পরিবহন দপ্তরের কর্মী পরিচয় দিয়ে হাজির হন ও ৫ লক্ষ টাকার চেক দেওয়ার কথা বলেন। ওই দিন আমাদের অংশীদারি কারবারের আরেক সদস্য নেই তাই তার সই ছাড়া চেক দেওয়া যাবে না বলে জানাই। তারপরেই স্থানীয় বিধায়ক অসীত মজুমদার ও মন্ত্রীর তপন দাশগুপ্তের সঙ্গে কথা বলি। উনারা সরাসরি পরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি ফের টাকা চাইতে এলে বসিয়ে রেখে থানায় খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে ফের আমার কাছে ফোন আসে। ফোনে শুক্রবার চেক তৈরি রাখার কথা বলা হয়। তারপর এদিন দুপুরে তমাল বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক ব্যাক্তি আমাদের দোকানে হাজির হন। নিজেকে পরিবহন দপ্তরের কর্মী দাবি করে চেক দেওয়ার কথা বলেন। চা বিস্কুট খাওয়ানোর অছিলায় বসিয়ে রেখে আমি থানায় খবর দিই। এরপরেই চুঁচুড়া থানার পুলিস এসে তমালবাবুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পাশাপাশি আমি অভিযোগ দায়ের করি।

No comments:
Post a Comment