কিছুদিন আগে মুক্তি পেয়েছে ‘হ্যাপি ফির ভাগ জায়েগি’র নতুন গান ‘স্যোয়্যাগ সাহা নাহি যায়’। গানটিতে একেবারে পাঞ্জাবী বাবলি গার্লের ভূমিকায় ধরা দিলেন সোনাক্ষী সিনহা। গানটি গেয়েছেন সোহেল সেন, শাদাব ফারিদি এবং নেহা ভাসিন। ট্র্যাকটির লিরিসিস্ট মুদাস্সর আজিজ। চলতি বছর ২৪ অাগস্ট মুক্তি পাবে ছবিটি।
সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সোনাক্ষী। সাক্ষাৎকারটি পূর্বপশ্চিম পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো–
অভিনেত্রীদের তো অনেক সাজগোজ করে থাকতে হয়। আর আপনি নাকি সাজতে একদম ভালবাসেন না?
একদম ঠিক! কানে দুল পরতেও আমার আলস্য লাগে। মা তো খুব চিৎকার করে। আমি স্কুললাইফ থেকেই টমবয়। স্কুল শুরু হওয়ার আগেই স্কুলের মাঠে পৌঁছে যেতাম আর ফুটবল খেলতাম। আর ইউনিফর্মের বারোটা বাজাতাম। বসে বসে খেলা দেখতে ভাল লাগে না আমার। খেলতে বেশি ভাল লাগে। আমার পছন্দের খেলা বাস্কেটবল আর ফুটবল। যাই হোক, আমি জানতাম অভিনয়ে আসার পরে ভাল দেখতে লাগাটা খুব জরুরি। তাই ব্যালান্স রাখি। ক্যামেরা অফ হয়ে গেলেই সাধারণ মেয়ের মতো থাকি।
সাজতে ভালবাসেন না, অথচ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে আসলেন কেন?
কারণ আমি সাজাতে ভালবাসি। একটা সময়ে স্কেচিং করতে ভাল লাগত। আর সেই থেকেই ফ্যাশনে আসার ইচ্ছে হয়। স্কুলে আমি স্টিচিংয়ে ফার্স্ট হতাম। এখনও যদি কেউ একটা সেলাই মেশিন দিয়ে দেয়, আমি একটা গোটা ড্রেস বানিয়ে ফেলব! সময়ের অভাবে এ সব আর করা হয় না।
দৈনন্দিন জীবনের স্ট্রেস থেকে নিজেকে দূরে রাখেন কী করে?
স্কেচিং অ্যান্ড পেন্টিং। কোনও কিছু গড়তে খুব পছন্দ করি। ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরলেও মনে হয় না ঘুমোই। সোজা পেন্টিং রুমে চলে যাই। ল্যান্ডস্কেপ, পোর্ট্রেট, অ্যাবস্ট্রাক্ট... সবই আঁকি। বড় কালেকশন বাড়িতে আছে। সুযোগ করে এগজ়িবিশন নিশ্চয়ই করব।
দাবাং টুর কেমন হল?
লাইভ পারফরম্যান্স আমাকে এক্সট্রা কিক দেয়। স্টেজের ভয় কখনও ছিল না। তিন সপ্তাহ টুর করেছি। সঙ্গে ঘোরা, খাওয়া, শপিং, রিহার্সাল সব! তবে হেকটিক ছিল। সপ্তাহান্তে শো থাকত। তার পরে মধ্যরাতে ফ্লাইট ধরে অন্য শহর আর পরের শোয়ের প্রস্তুতি।
সালমানের সঙ্গে লাইভ পারফর্ম করতে নার্ভাস লাগে না? উনি নাকি নাচতে নাচতে স্টেপ বদলে দেন...
প্রথম প্রথম পাশ-ফেলের ভয় থাকেই। এখন আমি ওর সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ। স্টেজে ও বড্ড ইম্প্রোভাইজ করে। কিন্তু আমিও ওরই মতো, তাই আমাদের তালমিল ভাল। সালমানের সঙ্গে লাইভ করার মজাই আলাদা! আর ওই আমার মধ্যে সিনেমার পোকার সন্ধান পেয়েছিল। তখন কেউ ভাবতেই পারেনি, আমি এত মোটা হয়ে কী করে নায়িকা হব। তবে ওকে প্রথম প্রথম ভয় পেতাম, যখন ‘দাবাং’এর শুটিং করছিলাম।
‘হ্যাপি ফির ভাগ যায়েগি’ কেন করলেন?
ছবির চিত্রনাট্য যখন শুনি, খুব হেসেছিলাম। আমার ছবি বাছার পদ্ধতিটা সহজ। স্ক্রিপ্ট শুনে গল্পের সঙ্গে কানেক্ট করছি কি না দেখে নিই। সেটা এক বার হয়ে গেলে ছবিতে সই করে ফেলি।
আপনার কাছে ‘হ্যাপি’ থাকার সংজ্ঞা কী?
আমি অল্পেই খুশি। পরিবার আর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারলেই খুশি থাকি। তবে কোনও দিন সমস্যা থেকে পালাই না। সমস্যা মিটিয়ে তবে নিশ্চিন্ত হই।
এরপর তো আরও ব্যস্ততা... ‘কলঙ্ক’ আর ‘দাবাং থ্রি’র কাজ!
হ্যাঁ, সামনের বছর ‘কলঙ্ক’ মুক্তি পাবে। এত বড় স্টারকাস্টের সঙ্গে কাজ করতে পারার অভিজ্ঞতা খুব স্পেশ্যাল। মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে কাজ করার অনুভূতিই আলাদা। ওঁর ভঙ্গিমা, নাচের স্টাইল, অভিনয়শৈলী সব কিছুতেই বৈচিত্র রয়েছে। ‘কলঙ্ক’ এর পরে ‘দাবাং থ্রি’র শুটিং শুরু হবে। অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম ছবিটার জন্য। প্রভু স্যর (প্রভু দেবা) পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন।

No comments:
Post a Comment