শহীদ ভগত সিং কে ফাঁসির সাজা নির্ধারিত হওয়ার পরে স্বাধীনতা সংগ্রামী চন্দ্রশেখর আজাদ খুব বিচলিত এবং চিন্তিত হয়ে পড়েন। ভগত সিং এর ফাঁসি আটকাতে তিনি ব্রিটিশ সরকারের প্রতি চাপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তার প্রিপ্রেক্ষিতে তিনি মহাত্মা গান্ধীর সাথে সাক্ষাৎপ্রারথী হিসেবে সময় চান। কিন্তু মহাত্মা গান্ধী তাঁকে (চন্দ্রশেখর আজা) সময় দিতে অস্বীকার করেন এই বলে যে, তিনি কোনো উগ্রবাদীর সাথে দেখা করতে পারবেন না। মহাত্মা গান্ধী জানতেন যদি ভগত সিং এবং চন্দ্রশেখর আজাদ এর মতো স্বাধীনতা সগ্রামী বেশীদিন জীবিত থাকেন এবং তাদের কার্য্যকলাপ চালিয়ে যান তাহলে তাঁরা যুবসমাজে নায়কের সম্মান লাভ করবেন। সুতরাং মহাত্মা গান্ধী ভগত সিং এর ফাঁসির কোনো প্রকার বিরোধিতাই করেন নি বরং তিনি নির্ধারিত দিনের এক দিন আগে যাতে ফাঁসই কার্য্যকর হয় সেই চেষ্টা করেছিলেন।
মহাত্মা গান্ধীর কাছে সময় না পেয়ে চন্দ্রশেখর আজাদ পণ্ডিত নেহেরু-এর সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন। ২৭ ফেব্রুয়ারী, ১৯৩১ সাল চন্দ্রশেখর আজাদ পণ্ডিত নেহেরু-এর সাথে দেখা করেন। সেইদিন নেহেরুর সামনে চন্দ্রশেখর আজাদ ফাঁসি স্থগিত (আটকানোর) করার আবেদন করেন। বৈঠকে চন্দ্রশেখর আজাদ নেহেরুর সামনে ভগত সিং কে বাচানোর পুরো পরিকল্পনা পরিবেশন করেন। যা দেখে নেহেরু যার পর নাই আশ্চর্যান্বিত হয়ে যান, কারন এই পরিকল্পনা কার্য্যকর করলে ভগত সিং কে বাচানো যেত। নেহেরু কোনো ভাবে সাহায্য করতে আস্বীকার করেন, যার পরিণাম চন্দ্রশেখর আজাদ খুব রেগে যান এবং নেহেরুর সাথে উনার প্রচণ্ড উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। বিরক্ত চন্দ্রশেখর আজাদ বৈঠক থেকে বের হয়ে উনার সাইকেলে চেপে অলফ্রেড পার্কের উদ্দেশ্যে চলে যান।
পার্কে কিছু সময় বসার পর বিশাল পুলিশ বাহিনী উনাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে, পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে এসেছিল যেন তারা আগে থেকে জানত যে চন্দ্রশেখর আজাদ এই পার্কে বসে আছে। আজাদ শব্দের বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় স্বাধীন, বস্তুত তিনি স্বাধীন ছিলেন। শেষ নিশ্বাস আর পিস্তলের শেষ গুলি থাকা অবধি ইংরেজ পুলিশ উনার সামনে আসতে পারেনি। পুলিশ আজাদ কে জীবন্ত ধরতে পারে নি।
এখন একটা মূর্খও এটা বুঝতে পারবে যে নেহেরুর ঘর থেকে বের হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে কিভাবে পার্কে আজাদকে বিশাল পুলিশ বাহিনী এত তাড়াতাড়ি এবং পুর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় ঘিরে ধরতে পারে? এটা নেহেরুর বেইমানির ফল, না হলে বিশাল পুলিশ বাহিনী আজাদ কে কখনও মৃত ধরতে পারত না (চন্দ্রশেখর আজাদের টিকির নাগাল কোনোদিন ইংরাজ পুলিশ পায় নি। সেখানে উনাকে এইভাবে ঘিরে ধরা তো ব্রিটিশ সরকারের স্বপ্নের আতীত)। নেহেরু পুলিশকে খবর দেন যে আজাদ পার্কে আছেন এবং কিছু সময় অখানেই থাকবেন। সঙ্গে তিনি এটাও বলেছিলেন যে পুলিশ আজাদকে কোনোভাবেই যেন জীবিত অবস্থায় ধরার ভুল না করে, কারন তাহলে ভগত সিং এর দিকে মামলা গড়িয়ে যেতে পারে আর তার ফাঁসি কার্য্যকর করতে সমস্যা হতে পারে।
সমস্যা হল এতকিছু হওয়ার পরেও স্বাধীনতার পরে কংগ্রেস সরকার পাঠ্যপুস্তকে বেইমান নেহেরুকে চাচা নেহেরু বানিয়ে তার জন্মদিন কে শিশুদিবস ঘোষনা করে। অন্যদিকে শহীদ চন্দ্রশেখর আজাদকে এখনও পাঠ্যপুস্তকে উগ্রবাদী হিসেবে পড়ানো হয়। যদি কোনোদিন আমরা সেটা বদলাতে পারি তা হলেই হবে সেই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রতি আমাদের আসল শ্রদ্ধাঞ্জলী।

No comments:
Post a Comment