অর্ক রায়,মালদা: ফিল্মি ছবি নয়,এ একদম সত্যিকারের জীবনী ঘটনা। নিজের মেশোর সাথেই অবৈধ সম্পর্কের জেরে ফুলশয্যার পরের দিনই নিজের স্বামীকে পরিত্যাগ পরে সেই স্বামীর চাকরি হাতিয়ে নিতে এবং কিছু দুষ্কৃতীদের সাহায্যে চলন্ত ট্রেনে স্বামীকে মারধর পরের ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ।
ঘটনার পর দীর্ঘদিন পলাতক থাকলেও অবশেষে মালদা গাজোল থানা এলাকার নেতাজি সুভাষ পল্লীর বাসিন্দা মূল অভিযুক্ত স্বর্ণকার ও মাসি শম্পা স্বর্ণকারকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
অভিযোগ, ২০১৬ সালের ২২ এপ্রিল মালদা গাজোল থানার আলালের বাসিন্দা পিন্টু মাঝি সাথে বিয়ে হয় পুরাতন মালদার বাসিন্দা অ্যানি রায়ের। পিন্টু পেশায় রেলকর্মী ।অভিযোগ বিয়ের পর থেকেই অ্যানি অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। অভিযোগ পরে ফুলশয্যার দিন রাতে সে তার স্বামীর কাছে স্বীকার করে নেয় ,তার মেসোর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের কথা। সে জানায় মেসোকে ছাড়া সে বাঁচতে পারবে না। পিন্টু যদি তার মেশোকে মেনে নেয় তাহলেই তার পক্ষে এই সম্পর্ক মানা সম্ভব বলে সে জানায় ,বলে অভিযোগ। পিন্টুর বক্তব্য অ্যানি তাকে গ্রুপ সেক্সের ও প্রস্তাব দেয়। এই সমস্ত ব্যাপারে পিন্টু রাজি না হওয়ায় ফুলশয্যার পরের দিনই অ্যানি তার সদ্য বিবাহিত স্বামীকে ছেড়ে মালদার গাজলের বাসিন্দা সুনীত স্বর্ণকারের বাড়িতে গিয়ে ওঠে বলে অভিযোগ পরে সেখানেই সে মেসোর সঙ্গে থাকতে শুরু করে।
এরপর গত ইংরেজি ২১/০৪/২০১৭ তারিখ পিন্টু মাঝি যখন ট্রেনে করে মালদা থেকে তার কর্মস্থল ফারাক্কার দিকে যাচ্ছিলেন তখনই পিন্টুর স্ত্রী তার মেসো, মাসি এবং কিছু দুষ্কৃতীকে সাথে নিয়ে পিন্টুর ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায় তাকে ট্রেন থেকে ফেলে খুন করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। এরপর পিন্টু সমস্ত ঘটনা জানিয়ে মালদা স্টেশনের রেল পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে যার এবংএফ আই আর নং ২৪/২০১৭ তারিখ ২২/০৪/২০১৭ এরপরই রেল পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৩৪১/৪২৫/৩২৬/৩৭৯ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ, তদন্ত শুরুর পর থেকেই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার গাজোল থানার পুলিশ এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত স্বর্ণকার এবং মাসি স্বর্ণকারকে গ্রেফতার করে আজ মালদা জেলা আদালতে পেশ করলে কৌতুহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। এই ঘটনায় খুশি পিন্টু ও তার পরিবার তাদের বক্তব্য, আইনের উপর তাদের ভরসা আছে অভিযুক্তরা অবশ্যই সাজা পাবে ।অন্যদিকে এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বারবার প্রশ্ন করা হলেও তারা তাদের প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি।


No comments:
Post a Comment