কেনিয়ার কাবারাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ৩২৪ জনকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এইচআইবি ভাইরাসে আক্রান্ত করেছে। সম্প্রতি ওই ছাত্রী নিজে এই স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস।
নাক্রুতে অবস্থিৎ কাবারাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কমপক্ষে ২০০০ লোকের মধ্যে এইচআইবি ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার প্ল্যান করে। পরে এক এক করে সে ৩২৪ জনেরও বেশি লোকের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়। প্রথমে এই কথা সে কেনিয়ার স্যান্ডাল নামক একটি ফেইসবুক পেইজে তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কথা স্বীকার করে।
২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ওই ছাত্রীর জন্য ছিল ভয়ানক দিন। সেদিন রাতে সে একটি পার্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ছাত্রদের সঙ্গে ছিল। পার্টি শেষে রাতে সে বাসায় এসে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু পরের দিন সকালে উঠে সে বুঝতে পারে পার্টিতে মদ্যপানরত অবস্থায় কেউ তার সঙ্গে সেক্স করেছে। সে একটু চিন্তা করে, বুঝতে পারে জাবান নামক ছেলেটি তার সঙ্গে সেক্স করেছে। পরে লজ্জায় শুধু ওই ছাত্রকে জিজ্ঞেস করে, তুমি যৌন মিলনের সময় কনডম ব্যবহার করেছিলে কিনা। জাবান জানিয়েছিল, চিন্তার কারণ নেই। আমি কনডম ব্যবহার করেছিলাম।
কিন্তু ছাত্রী গোসল করতে গিয়ে দেখে এখানে-সেখানে স্পারম পড়ে আছে। তার মানে জাবান মিথ্যা বলেছিল। ওই অবস্থায় সে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল এই ভয়ে যে, সে না আবার এইচআইবি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায় বা গর্ভধারণ করে ফেলে। ওই ছাত্রীর আশঙ্কা সত্য প্রমাণিত হয়। সে বুঝতে পারে সে এইচআইবি ভাইরাসে আক্রান্ত। আর এতেই তার জীবনে দুর্বিষহ যন্ত্রণা নেমে আসে। সে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করে। ওই ছাত্রী বুঝতে পারে তার জীবন ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এর জন্য কাউকে না কাউকে চরম মূল্য দিতে হবে। তার মাথায় প্রতিশোধের আগুন জ্বলে উঠে। আর সে জানে কীভাবে বিবাহিত বা অবিবাহিত মানুষদের আকর্ষণ করে এই প্রতিশোধ নিতে হবে।

No comments:
Post a Comment