পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত এক নার বিরুদ্ধে এমনই গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই নারীকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিল কার্ডিফ আদালত। নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন ওই নারী।
জানা গেছে, ৩৬ বছর বয়সী ওই নারী তাঁর ১৪ বছরের ছেলের সঙ্গে সেক্স করেছেন এবং ‘সবটুকুই’ করেছেন। কিছুই বাদ রাখেননি। শুধু তাই নয়, সেক্স করেছেন মেয়ের সঙ্গেও। মেয়ের বয়স ১৩। ছেলের থেকে একবছরের ছোট। তারপর, সেই ছবি তুলে পাঠিয়েছেন হোয়াটসঅ্যাপে পাকিস্তানে তাঁর এক তুতো ভাইকে।
ওই নারী জানিয়েছেন, মূলত ওই তুতো ভাইয়ের কথাতেই নাকি এসব করেছেন তিনি। তুতো ভাই-ই নাকি তাঁকে ছেলেমেয়ের সঙ্গে সেক্স করার জন্য বলত এবং তার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে বলত। এখানেই শেষ নয়। আরও আছে। বাড়ির সবচেয়ে ছোটো মেয়ের বয়স ৩। তার নগ্ন ছবি তুলে পাঠাতে বলত হোয়াটসঅ্যাপে। সেই তুতো ভাই।
তুতো ভাইকে মোট ১১৯টি ছবি আর ৩টি ভিডিও পাঠিয়েছিলেন বলে জেরায় জানিয়েছেন ওই নারী। স্বীকার করে নিয়েছেন অপরাধ। তার ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
মহিলার আইনজীবী রুদ স্মিথ বলেন, “ওই নারীর ব্যাকগ্রাউন্ডই এর জন্য কিছুটা দায়ি। বেড়ে ওঠার পরিবেশ এমন ছিল যে পরের আদেশ-নির্দেশে নিজেকে সপে দেওয়াটাই শিখেছেন। ভালোমন্দ বোধশক্তি হারিয়েছেন। ‘পুরুষকে সন্তুষ্ট করাই শিখেছেন ছোটো থেকে। ন্যায়নীতি বোধ হারিয়েছেন বেড়ে ওঠা পরিবেশের কারণে।
১৩ বছর বয়সে স্কুল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ওই নারীকে। পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়। লাগিয়ে দেওয়া হয় পারিবারিক ব্যবসায়। খুব অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এমন একটা পরিবারে যেখানে মারপিট, যৌন নিপীড়ন, অত্যাচারটাই স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সমাজে, সংসারে সেটাই তিনি মেনে নিয়েছিলেন।
ছোটো থেকেই নমনীয় হতে শেখানো হয়েছে। ‘পুরুষকে খুশি করতেই শেখানো হয়েছে। প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করতে শেখেননি। ছেলেমেয়ের সঙ্গে সেক্স করেছেন, মানে এই নয় কী তিনি তাদের কল্যাণ চান না। বরং স্বাভাবিক নিয়মেই ছেলেমেয়ের কল্যাণ কামনা করেন। এমনকী তাঁর ছেলেমেয়ের কী হবে, তা নিয়েও তিনি চিন্তিত।”
বিচারক এলিরি রিজ় সাজা ঘোষণার সময় ওই নারীর উদ্দেশে বলেন, “সত্যিই মারাত্মক অপরাধ। ছেলেমেয়ের প্রতি আপনার কর্তব্য ছিল। আপনি তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং ব্যর্থ নয় ভয়ংকরভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।”

No comments:
Post a Comment