একটি ব্রাশেই দাঁত মাজতে হয় ৪৯ শিশুকে! - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 4 August 2018

একটি ব্রাশেই দাঁত মাজতে হয় ৪৯ শিশুকে!

একটি ব্রাশেই দাঁত মাজতে হয় ৪৯ শিশুকে!
কাহিনিটা দুঃখের, হতাশারও। কবির ভাষায়- জন্মই যেন এদের আজন্মের পাপ। জন্ম থেকেই বঞ্চিত ওরা, হয়তো আমৃত্যু সেই বঞ্চনার শিকার হয়েই বেঁচে থাকতে হবে ওদের। এক টুকরো পৃথিবীতে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার ছিনিয়ে নেয়ার এক করুণ অথচ বাস্তব কাহিনি হয়ে উঠেছে ওদের জীবন।
গল্পের ছলে সেই কাহিনিই শুনিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন এইচ এল দাত্তু নিজেই। প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য এক সরকারি হোমে তিক্ত অভিজ্ঞতার সাক্ষী তিনি নিজেই। যেখানে মাত্র একটি ব্রাশেই ৪৯ জন প্রতিবন্ধী শিশুকে প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করতে হচ্ছে! সেই হোমে ওই ৪৯ শিশুর জন্য টুথপেস্টও একটিই।
ঘটনাটি বছর দুয়েক আগের। সরকারি সেই হোমটিতে গিয়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের দুর্দশার সাক্ষী হয়েছিলেন বর্তমানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন। সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে হোমের প্রতিবন্ধী শিশুদের বঞ্চনার কথা জানিয়েছেন তিনি নিজেই।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সরকারি হোমটিতে একটি টুথব্রাশেই দাঁত মাজছে ৪৯ শিশু। যাদের টুথপেস্টও একটিই। বিষয়টি অবাক করেছিল প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকেও। তার মতে, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য সরকারি ফান্ডের কোনও অভাব নেই। আসলে ঘটনা হল, এক্ষেত্রে ছিঁচকে চোরের খপ্পরে পড়ে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় শিশু ও বয়স্করা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি তাদের যোগ্য অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টাও করছেন বলে জানা গেছে।
এ নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তাদের প্রতিনিধিদের সরকারি হোমগুলি ঘুরে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। হোমের আবাসিক শিশু ও বয়স্করা তাদের প্রাথমিক সুবিধা পাচ্ছে কি না, তা নিয়ে একটি রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। হোমের অসহায় আবাসিকদের প্রকৃত সুযোগ-সুবিধা দেয়ার যথার্থ চেষ্টাও চলছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad