১৮৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্ধ্যোবসতের পর সোনারপুরের রাজপুর থেকে দুর্গাচরন রায়চৌধুরী তার কাছারী বাড়ি বারুইপুর রাসমাঠে এসে বসবাস শুরু করে। রাজপুরের বাড়িতে রাজা রাজবল্লভ যে রীতিনীতি মেনে দুর্গা পূজা হতো। সেই রীতিনীতি মেনে এখানে দুর্গা পূজা হয়। আমাদের সাড়ে ৩৫০ বছরের দুর্গা কাঠামো যে পূজা হতো এখনও সেই কাঠামোতে এই পূজা হয়ে থাকে। মহালয়ার পরের দিন থেকে চন্ডী পূজা শুরু হয়ে যাবে। ষষ্ঠির দিন সকালে ঠাকুরের কাছে পূজা ও সন্ধ্যা বেলায় বেল গাছ বরণ হয়। সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য বিষয় হলো সপ্ত নদীর জলে আমাদের ঠাকুরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়। আমাদের বাড়ির কলাবউ গঙ্গার ঘাটে যায়না এখানে স্নান করাতে হয়। সাতটা নদী অর্থাৎ স্বপ্ত নদীর জল নিয়ে এই পূজা হয়। সপ্তমী থেকে প্রতিদিন ঠাকুরের আরতি হয়। চৌধুরী বাড়ির আত্মীয় রা দেশ বিদেশে যে খানে থাকুক না কেনো অষ্টমীর দিন সবাই চলে আসতো। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন পাঠা বলি হয়।
কিন্তু নবমীর দিন পাঠা বলির পর আখ ও চাল কুমরো বলি হয়। দশমীর দিন সকালে একবার পূজা হয় এবং তারপর ১ টা ১.৩০ নাগাদ বাড়ির বউ রা দুর্গা মা কে বরণ করার পর সিঁদুর খেলা শুরু করে এবং প্রত্যেকে যে যার মুখে সিঁদুর রাঙিয়ে আনন্দ উৎসব করত । এর পর বিকাল ৫ টা নাগাদ ঠাকুর গঙ্গার ঘাটে নিয়ে যাবার সময় পাখা দিয়ে হাওয়া করতে করতে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথম থেকে রীতি মেনে গঙ্গার ঘাটে অন্য বাড়ির ঠাকুর গেলেও আগে রায় চৌধুরী বাড়ির ঠাকুর বিসর্জন হবে তারপর অন্যান্য বাড়ির ঠাকুর বিসর্জন হবে। ঠাকুর বিসর্জনের পর পুরোনো নিয়ম রীতি মেনে দুটি নীলকনঠ রাঙিয়ে পাখি আনা হয়। সেটি বিসর্জনের পর সেই নীলকন্ঠ পাখি দুটি কে ওড়ানো হয়। এটা একটা রীতি আছে যে কৈলাসে গিয়ে শিব কে খবর দেওয়া হয় যে মা আসছে।

No comments:
Post a Comment