এইডসের ভুয়া সনদ বিক্রির ধুম - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 1 September 2018

এইডসের ভুয়া সনদ বিক্রির ধুম




উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ভুয়া এইচআইভি/এইডস নেগেটিভ সনদ বিক্রি করা হয়। এইচআইভি আক্রান্তরা চাকরির জন্য এই বেসরকারি ক্লিনিকগুলো থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করেন এই ভুয়া সনদ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ক্যাথরিন বায়ারুঙ্গার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

কাম্পালার শহরতলীর একটি জনপ্রিয় সুপারমার্কেটের সামনে একদিন ব্যস্ত সকালে আমার সঙ্গে সারাহ’র দেখা হয়। তার বয়স প্রায় ২০।  তার চোখ বলে দিচ্ছিল যে সে খুব উদ্বিগ্ন। আর তাই এ কাজে তাকে আমি শুরু থেকেই কোনো চাপ প্রয়োগ করতে পারছিলাম না। আমি আমার অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরেই এমন একজনের খোঁজ করছিলাম যে টাকার বিনিময়ে কোনো একটা ক্লিনিক থেকে ভুয়া এইচআইভি সনদ গ্রহণ করবে। অনেকের সঙ্গেই আমার কথা হয়। কিন্তু সবাই ভয় পাচ্ছিল এই কাজে। সারাহ যদিও ওই মেয়েটির আসল নাম নয়। তার পরিচয় আমাদের কাছে গোপন থাকবে এই শর্তে সে কথা বলতে রাজি হয়।

‘যেভাবেই হোক এইচআইভি নেগেটিভ (শরীরে এইচআইভি ভাইরাস নেই এমন) সনদ সংগ্রহ করতে হবে আমাকে। আমি যদি আমার কোম্পানিকে এই সনদ দেখাতে পারি তাহলে আমাকে চাকরি ছাড়তে হবে না। আমার একটা সন্তান আছে। অনেক পরিশ্রম করে আমাকে বাঁচতে হয়। আর এজন্য আমার চাই পর্যাপ্ত অর্থ। আমার সন্তানের জন্য এই চাকরিটা আমরা দরকার।’

চাকরি পাওয়ার জন্য, বিদেশে যাওয়ার জন্য কিংবা যৌনসঙ্গী যাতে চলে না যায় এজন্য অনেক সময়ই এইচআইভি আক্রান্ত মানুষ এরকম ভুয়া সনদ সংগ্রহ করে থাকে। কারণ উগান্ডার সমাজ ব্যবস্থায় এইডস আক্রান্তকে খুব খারাপ চোখে দেখা হয়। আর সেজন্যই আমরা ছদ্মবেশ নিয়ে কাম্পালার বেশকিছু ক্লিনিকে যাই, যে ক্লিনিকগুলো মূলত এই ব্যবসাটি করে বলে অভিযোগ আছে। এগুলো যে খুব বড় বেসরকারি ক্লিনিক তা কিন্তু নয়। এরকম ছোটো ছোটো কয়েকশ ক্লিনিক আছে পুরো কাম্পালা জুড়ে। আর এই ক্লিনিকগুলোতে পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই, যা করার তা নার্স কিংবা ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্সেরাই করেন।

আমরা মোট ১৫টি ক্লিনিকে গিয়েছিলাম, যার মধ্যে ১২টি ক্লিনিকই আমাদের ভুয়া সনদ দিতে রাজি হয়েছে। এরমধ্যে একজন ল্যাবরেটরি সহকারী আমাদের জানায় যে, এই কাজ তার জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং এই কারণে তাকে গ্রেপ্তারও করা হতে পারে। তবে তার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার পর সে মাত্র ২০ ডলারের বিনিময়ে একটি এইচআইভি নেগেটিভ সার্টিফিকেট দিতে রাজি হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সনদগুলোতে আনুষঙ্গিক সবকিছুই থাকে। ক্লিনিকের নিজস্ব সীলমোহর এবং স্বাস্থ্যকর্মীর স্বাক্ষরও থাকে ওই সনদগুলোতে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad