চার বছরের চারলোট্টি কুকের মিষ্টি হাসি দেখলে অবশ্য কেউ ভাবতেও পারবেন না যে শিশুটি এক ধরনের বিরল রোগে ভুগছে। বিরল পিকা ডিসঅর্ডারের (একটি মানসিক রোগ, যার প্রভাবে রোগী সাধারণত এমন সব খাবার খায় যা সাধারণত আমরা খাবার হিসেবে গ্রহণ করি না। যেমন-মাটি,বরফ,কাপড়,খড়িমাটি, সাবান, টুথপেস্ট ইত্যাদি।) শিকার ছোট্ট ব্রিটিশ মেয়েটি প্রতিদিন খেয়ে ফেলছে নিজের প্লাস্টিকের খেলনা থেকে শুরু করে মেঝের কার্পেট এমনকি সোফার কাপড়ও।
দিনে দিনে বেড়ে চলা ছোট্ট চারলোট্টির রোগের কারণে এখন তার মা ৪২ বছর বয়সী নিক্কি ভয়ে আছেন, কবে যেন তার মেয়ে এসব কাপড়, কার্পেট আর প্লাস্টিক খেয়ে মারা যায়।
জানা যায়, চারলোট্টি আসলে একটি অটিস্টিক শিশু। যার কারণে সে এই বিরল মানসিক বৈকল্যে ভুগছে। ফলে সে ক্রমাগত কাপড় খায়।
তার মা নিক্কি বলেন, ‘এটা খুব গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমরা ভয় পাচ্ছি এগুলো না জানি তা ভেতরের পরিপাকতন্ত্রে গিয়ে জড়িয়ে যায়। যা তার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। আমরা তাই প্রতিদিনই ভয়ে ভয়ে থাকি।’
নিক্কি জানান, চারলোট্টি নিয়মিতই কাপড় খেয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে সে ঘরের সোফার হাতল, কুশন, কার্পেট খেয়ে ফেলেছে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা তাদের পরামর্শ দিয়েছেন চারলোট্টির দিকে খেয়াল রাখতে। তারপরও যদি তার কখনো জ্বর, বমি বা খিঁচুনি হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে হাতপাতালে নিতে।
নিক্কি বলেন, ‘আমরা কার্পেটে কোনো ছিদ্র না রেখেই তা পাল্টে দিয়েছিলাম। কিন্তু সে সেগুলোকেও খুঁটে খুঁটে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলেছে। এমনকি সে তার খেলনা কুকুরটিও ছিঁড়ে খেয়েছে। এসব বিভিন্ন জিনিস খাওয়ার ফলে সে চারলোট্টিকে স্বাভাবিক খাবার খাওয়ানো যায় না বল্লেই চলে।
ল্যানার্কসায়ারের লেসমাহাগৌয়ে বসবাসরত চারলোট্টির বাবা আলাসদাইর জানান, বছর তিনেক আগে তারা মেয়ের এই বৈকল্যের বিষয়টি ধরতে পারেন। মাত্র এক বছর বয়সেই চারলোট্টি তাদের ড্রইংরুমের একটি গালিচা খেয়ে শেষ করে ফেলে। সেসময়ই তার অটিজম ধরা পড়ে।
নিক্কি বলেন, আমরা তখন ওর ভয়ে গালিচা সরিয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু তারপর সে কার্পেট ছিঁড়ে খেতে শুরু করলো। আমরা তাকে থামাবার এবং দূরে সরিয়ে রাখতে অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছুতেই কিছু কাজ হয়নি।
সব শেষ ব্যবস্থা হিসেবে চিকিৎসকরা চারলোট্টির বাবা-মাকে ঘর থেকে সব ধরনের কাপড়ে তৈরি জিনিস সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেন। কিন্তু নিক্কি ও আলাসদাইরের পক্ষে তা মানা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

No comments:
Post a Comment