অর্ক রায়, মালদা: অবশেষে কয়েক দশক পর মালদা মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল এ চালু হতে চলেছে ক্যান্সারের চিকিৎসা। ইতিমধ্যেই সরকারি গাইডলাইন মেনে তৈরি করা হয়েছে রেডিয়েশন কক্ষ। অন্যান্য পরিকাঠামো প্রায় তৈরি। এখন অপেক্ষা শুধু যন্ত্রাংশের। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর জানুয়ারি মাসেই মালদা মেডিকেলে চালু হতে চলেছে ক্যান্সার থেরাপি রেডিও ইউনিট। যদিও ইতিমধ্যেই হাসপাতালের বহির্বিভাগে ক্যান্সারের কেমোথেরাপি পরিষেবা চালু হয়ে গিয়েছে।
ফলে, এখন আর মালদা ছাড়াও আশেপাশের কয়েকটি জেলা রাজ্যের ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষদের কলকাতা বা শিলিগুড়ি ছুটতে হবে না। খুব দ্রুত কলেজ হাসপাতালেই উন্নত মানের ক্যান্সার থেরাপি রেডিও ইউনিট চালু হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন মালদা মেডিকেল কলেজের সুপার অমিত দা।
মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে এই সম্পূর্ণ ইউনিট তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। যার মধ্যে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। এখন শুধু বাকি অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ । এই নতুন বিভাগটি দ্রুত চালু করার লক্ষ্যে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মী এবং টেকনিশিয়ান চেয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে মালদা মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। ক্যান্সার থেরাপি ইউনিট চালু করতে হলে ৫ জন চিকিৎসক ৪ জন টেকনিশিয়ান, ১ জন রেডিয়েশন অফিসার ,গ্রুপ ডি, ৫ জন সাফাই কর্মী, সেফটি অফিসার, স্টোর কিপার ও ৪ জন নিরাপত্তারক্ষী প্রয়োজন।
এই সমস্ত প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ইতিমধ্যেই রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনে চিঠি পাঠিয়ে ডাক্তার এবং কর্মীদের নিয়োগ করতে অনুরোধ জানিয়েছেন মালদা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মেডিকেল কলেজের সুপার অমিত দা আশাবাদী, ডাক্তার এবং কর্মী পাওয়া গেলেই দ্রুত ক্যান্সার থেরাপি রেডিও ইউনিট টি চালু করা যাবে। অমিত বাবু বলেন "সম্ভবত চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই সমস্ত যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে আগামী বছর জানুয়ারি মাসেই চালু করে দেওয়া যাবে এই ইউনিট।"
গোটা উত্তরবঙ্গে মধ্যে একমাত্র শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ই ক্যান্সার থেরাপি ইউনিট চালু আছে। ফলে মালদা ও দুই দিনাজপুর ছাড়াও আশেপাশের কয়েকটি রাজ্যের ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের রেডিওথেরাপি করানোর জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজেই ছুটে যেতে হতো। আবার কেউ কলকাতা বা মুম্বাইয়ে গিয়ে এই চিকিৎসা করাতেন। মালদায় এই পরিষেবা চালু হলে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী ও তাদের আত্মীয়দের হয়রানি এবং অর্থ ব্যয় অনেকটাই কমে যাবে।
মালদা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের সুপার অমিত দা জানিয়েছেন, "মেডিকেল কলেজের আইসোলেশন বিভাগের পাশেই চারতলা ভবন তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ভাবা পারমাণবিক কেন্দ্রের গাইডলাইন মেনে ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে রেডিয়েশন কক্ষ ।এখানে ই সমস্ত মেশিন বসানো হবে। ইতিমধ্যেই বহির্বিভাগে এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে, অন্তঃবিভাগে পরিষেবা এখনও চালু করা যায়নি আপাতত বহিঃবিভাগে কেমোথেরাপি পরিষেবা, ক্যান্সার আক্রান্তদের দেওয়া শুরু হয়েছে।"
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে,মালদা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল এর এই ইউনিটটি চালু হলে, জিলা বাশি ছাড়াও আশেপাশের জেলা এবং কয়েকটি রাজ্যের বহু গরীব এবং সাধারন মানুষের কাছেই চিকিৎসার একটি নতুন দিগন্ত যে উন্মুক্ত হবে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

No comments:
Post a Comment