অভিনব পদ্ধতিতে প্রতারণার মাধ্যমে মেয়েদেরকে ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। সম্প্রতি আমার এক পরিচিত নারী এ প্রতারণার শিকার হচ্ছিলেন। সময় মত পদক্ষেপ নেয়ায় তিনি বেঁচে যান। ঘটনাটি নিন্মরূপ:
কিছুদিন আগে রূপার (ছদ্মনাম) ফেসবুকে একটি আইডি ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসে। আইডি তে উল্লেখিত তথ্যানুসারে ওই ব্যাক্তি লন্ডনের একটি নামিদামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক। ওনার প্রোফাইল দেখে রূপা রিকুয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করেন। এর কয়েকদিন পর শিক্ষক পরিচয় দানকারী ভদ্রলোক রূপাকে "হাই" "হ্যালো" জাতীয় ম্যাসেজ দেয়া শুরু করেন। রূপাও রিপ্লাই দেয়া শুরু করলে দু'জনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। এক পর্যায়ে বিলাতি প্রফেসর সাহেব রূপাকে কিছু গিফট পাঠাবেন বলে প্রস্তাব করেন এবং রূপার ঠিকানা দিতে বলেন। রূপা প্রথমে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করেন। বৃটিশ ভদ্রলোক রূপাকে প্রলোভন দেখানোর জন্য গিফটগুলোর ছবি পাঠান। গিফটগুলো হলো-
একটি আইফোন,
আই প্যাড,
একটি স্বর্ণের নেকলেস,
একটি ঘড়ি,
একটি স্বর্ণের আংটি এবং
কিছু ব্যয়বহুল কসমেটিকস পণ্য।
ছবি দেখে রূপা কৌতুহল বশত ঠিকানা দিয়ে দেন। এর ঠিক পরদিন রূপার মোবাইলে বাংলাদেশি নাম্বার থেকে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে একজন কাস্টমস কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিয়ে বলেন -" আমি চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট থেকে বলছি। আপনার কিছু পার্সেল এসেছে লন্ডন থেকে। এগুলোর কাস্টসম ডিউটি হয়েছে ৫০,০০০ টাকা। আপনি ৫০,০০০ টাকা ডিউটি পরিশোধ করে পার্সেলটা সংগ্রহ করুন।" রূপা যখন জানত চায় কিভাবে ৫০,০০০ টাকা পরিশোধ করবে তখন ঐ ব্যক্তি একটি বেসরকারি ব্যাংকের গাজীপুরের একটি ব্রাঞ্চের একাউন্ট নাম্বার দিয়ে ওই একাউন্টে ৫০,০০০ টাকা জমা দিতে বলেন।
এর পরের কাহিনী খুব সংক্ষিপ্ত। রূপা আমার সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি খুলে বলে। আমি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মরত হওয়ায় বুঝতে পারি এভাবে কাস্টমস ডিউটি পরিশোধ করার কোন পদ্ধতি নেই এবং এটা একটা প্রতারক চক্র সেটাও বুঝতে পারি। আমি এরপর পুলিশ এবং পরিচিত কিছু সাংবাদিকদের সাথ যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হই এবং চক্রটাকে ধরার একটা প্ল্যান করি। কিন্তু ওরা কোনভাবে বিষয়টি বুঝতে পেরে ফেসবুক আইডি ডিলিট করে দেয় এবং ফোন নাম্বার বন্ধ করে গাঁ ঢাকা দেয়।
ফেসবুক ব্যবহারকারী সব মেয়েরা সাবধান থাকবেন। ঐ চক্রটি যদি ৫০,০০০ টাকার পরিবর্তে ৫,০০০ টাকা চাইত তাহলে হয়তো রূপা আমার সাথে যোগাযোগ করত না। টাকা দিয়ে দিত। এভাবে হয়তো তারা ১,০০০ মেয়ের কাছ থেকে ৫,০০০ টাকা করে নিয়ে একটি মোটা অংকের টাকা আদায় করে পালিয়ে যেত। সুতরাং, সবাই সাবধানে থাকবেন, অপরিচিত কাউকে ফেসবুকে বন্ধু না করাটাই উত্তম হবে। বলা তো যায় না, আপনিও পড়ে যেতে পারেন এই প্রতারক চক্রের কবলে। তারা হয়ত আপনার আরও ক্ষতি করতে পারে।

No comments:
Post a Comment