অর্ক রায়, মালদা: ইট, কাঠ আর কংক্রিটের জঙ্গল দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া মালদার
মানুষের সামনে, এক টুকরো শান্তির খোঁজে এবার শহরের
মালঞ্চপল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। ৫৫ তম বর্ষে তাদের নিবেদন কংক্রিটের এই
শহরের বুকে এক টুকরো প্রকৃতি। অরণ্য আর তাদেরকে ঘিরে থাকা বিভিন্ন জীবজন্তু, পশুপাখি, মৌচাক। মালদার শহীদ স্মৃতি সংঘ আয়োজিত এই শারদ
উৎসবের ৫৫ তম বর্ষের মণ্ডপে পৌঁছে এবারে আপনি হারিয়ে যেতেই পারেন, কোন এক প্রকৃতির কোলে। সবুজ গাছ, পশুপাখি আর অসংখ্য মৌমাছিরা যেখানে
প্রস্তুত আপনাকে স্বাগত জানাতে । মণ্ডপে প্রবেশ করে, মৌমাছিদের গুঞ্জন আর পাখিদের ডাকে আপনার মনে
হতেই পারে আপনি কোনও পূজামণ্ডপে নয় জঙ্গলে প্রবেশ করেছেন।
এই পুজো কমিটির সম্পাদক সিতাংশু দাশ বক্তব্যেও এর সমর্থন মিলেছে, সিতাংশু বাবু জানালেন, 'চারিদিকে ইট কাঠ আর কংক্রিটের দেখতে দেখতে আমরা যখন ক্লান্ত, হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি , তখন এ বছর আমাদের প্রয়াস সেই প্রকৃতিকে মানুষের মধ্যে বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া।'
এই পুজো কমিটির সম্পাদক সিতাংশু দাশ বক্তব্যেও এর সমর্থন মিলেছে, সিতাংশু বাবু জানালেন, 'চারিদিকে ইট কাঠ আর কংক্রিটের দেখতে দেখতে আমরা যখন ক্লান্ত, হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি , তখন এ বছর আমাদের প্রয়াস সেই প্রকৃতিকে মানুষের মধ্যে বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া।'
দীর্ঘ প্রায় দুমাস ধরে স্থানীয় যুবক নিমাই সাহার নেতৃত্বে ১০ জন শিল্পী ছাড়াও এই ক্লাবের ৮
থেকে ৮০ সকলেই হাত লাগিয়েছেন এবারে মালদাবাসী কে একটি অনবদ্য শিল্প কর্ম এবং
দৃষ্টিনন্দন মন্ডপ উপহার দিতে। আর তাই বাঁশ বেত আর থারমোকল কেটে শিল্পীর হাতের
অনবদ্য ছোঁয়ায় সেজে উঠছে মন্ডপ থেকে প্রতিমা সবকিছুই।
এবারে পুজোর বাজেট প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। নয়নাভিরাম মন্ডপ বাহারি
আলোকসজ্জার সাথে প্রতিমা রয়েছে মানানসই। জাতীয় পাখি ময়ূর এর আদলে নির্মিত
দেবীমুর্তির সাজ পোশাকেও থাকছে ময়ূরের পাখার ছোঁয়া। আর অসুরের আসনে ময়ূরের
চিরশত্রু সাপ। শিল্পী দিব্যেন্দু সাহা, শহরের এই তরুণ শিল্পীর তৈরি শিল্পকর্ম যে
এবারের মালঞ্চ পল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির প্রচেষ্টাকে সর্বাঙ্গ সুন্দর করে
তুলবে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সব মিলিয়ে, আন্তরিক প্রচেষ্টা, সুন্দর ভাবনা আর মুক্ত চিন্তা যে সব সময়ই একটা ভালো কিছুর জন্ম দেয়
তার প্রমাণ মিলল ক্লাবেরই একজন সদস্য শুভেন্দু চন্দ্র দাসের কথায়, পুজোয় মানুষ মাতবেন, আনন্দ করবেন এটাই তো স্বাভাবিক, কিন্তু এই উৎসবকে সামনে রেখেই মানুষকে
সচেতন করা, কঠিন এবং বাস্তব জিনিসকে সহজ ভাবে
উপস্থাপনের মাধ্যমে, সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষকে, বিশেষ করে শিশুদের আনন্দ দান ই এবারে আমাদের
পুজোর মূল থিম। আশা করি দর্শকরা আমাদের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাবেন।



No comments:
Post a Comment