ফ্যাশনও হতে পারে ক্ষতির কারণ! - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 14 September 2018

ফ্যাশনও হতে পারে ক্ষতির কারণ!




নিজেকে সবার সামনে জাহির করার জন্য, আজকের দিনে ফ্যাশনেবল ড্রেস পরতে কে না চায়। সাথে একটু সাজগোজ। তাইতো কখনো ন্যারো-টাইট জিনস, আবার কখনো প্লাজোর চাহিদা অনেক তুঙ্গে। আর পোশাকের সঙ্গে মানানসই চুরি, দুল, কালারফুল ব্রেসলেট তো আছেই। এগুলো ছাড়াও চাই আরো অনেক কিছু। কিন্তু একবারও ভেবে দেখেছেন কি, স্টাইলের নামে আপনি অসুস্থতা কিনছেন কিনা? ফ্যাশনের সাথে সাথে এ বিষয়টাও মাথায় রাখা জরুরি। নতুবা হতে পারে ঘোর বিপদ।
সম্প্রতি গবেষকরা বলেছেন, জামা-কাপড়ের সাথে আমাদের সুস্থ থাকার একটা সম্পর্ক রয়েছে। ঠিক ঠিক জামা-কাপড় না পরলে একাধিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়, একাধিক গবেষণায় তা প্রমাণিত হয়েছে।
গবেষকরা বলেছেন, আমরা কেমন ধরনের কাপড় পরছি তার উপর আমাদের দেখতে কতটা সুন্দর লাগছে তা যেমন অনেকাংশে নির্ভর করে, তেমনি শরীর ভালো থাকা বা না থাকাও নির্ভর করে। কাজেই ফ্যাশন ধরে রাখতে গিয়ে আমাদের শরীরের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখাটা সমান জরুরি।
আটসাট জিন্সের প্যান্ট : শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর হল আটসাট জিন্সের প্যান্ট। ন্যারো- ফিটিং জিন্স পরলে দীর্ঘক্ষণ আমাদের থাই এবং পেটের নিম্নাংশ চেপে থাকে। শরীরের এই অংশে রক্ত চলাচল ঠিক মতো হতে পারে না। ফলে পায়ে ক্র্যাম্প লাগা এবং অসারতার মতো সমস্যার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া পেটে রক্ত সরবরাহ ঠিক মতো না হওয়ার কারণে অ্যাসিড রিফ্লাক্স এবং বদ হজমের সমস্যাও মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে। অনেক সময় এটি শরীরের টিস্যু ফুলে যাওয়ার জন্যও দায়ী।
চাপা স্কার্ট : টাইট কিংবা চাপা স্কার্ট পরলে যে কাউকে দেখতে ভালো লাগলেও এটি ক্ষতিকর। এ ধরনের জামা-কাপড় পরলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে, টাইট স্কার্ট কোমরের কাছে খুব চেপে থাকে। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এখানেই শেষ নয়, এমন ধরনের ড্রেসের কারণে শরীরের নিচের অংশে স্বাভাবিক রক্ত সরবরাহেও বাঁধা সৃষ্টি হয়। এছাড়া এই পোশাক শারীরিক আরও নানা সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী।
অন্তর্বাস : যোনি স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় অন্তর্বাস নির্বাচনেও সতর্ক থাকা উচিত। কেননা মূত্রনালীর সংক্রমণের জন্য অনেকাংশেই ভূমিকা রাখে এই অন্তর্বাস। বিশেষ করে ব্যক্তি যদি অনেক সংবেদনশীল হয়ে থাকে তাহলে এর কারণে তাদের হ্যামারোহয়েডও হতে পারে। আবার সঠিক মাপের অন্তর্বাস না পরলে ত্বকের রোগ, স্পার্ম কাউন্ট কমে যাওয়া এবং গ্যাস অম্বলের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই সুস্থতা নিশ্চিত করতে সঠিক সাইজের আন্ডারওয়্যার পরা জরুরি।
শক্ত কাপড় : শক্ত কাপড় পরিধানে আমাদের শরীরে হরমোনের নানা সমস্যা হতে পারে। কিছু কিছুৃ কাপড়ের ফ্যাব্রিক এতটাই খারাপ যে, এসব কাপড় পরিধানে ক্যান্সার হতে পারে। কারণ এসব কাপড়ের রং এবং ফেব্রিকে কোন ধরণের কোয়ালিটি ব্যবহার করা তা অনেকক্ষেত্রেই আমাদের অজানা থাকে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শক্ত কাপড়ও এড়িয়ে চলা ভালো।
হাই হিল: শুধু জামা-কাপড় নয়, জুতোও কিন্তু নানা শারীরিক সমস্যার জন্য দায়ী। একাধিক কেস স্টাডি করে জানা গেছে, বহুক্ষণ হিল জুতো পরে থাকলে গোড়ালি, পিঠ, ঘাড় এবং কোমরের একাধিক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে নিউরোমার মতো ডিজিজ হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।
ভারি গয়না : খুব ভারি দুল পরলে দেখতে অনেক সুন্দর লাগে। কিন্তু এই ধরনের জুয়েলারি নিয়মিত পরলে কানের পাতায় মারাত্মক যন্ত্রণা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একইভাবে গলার হারের ওজন যদি বেশি হয়, তাহলে স্পাইনাল কর্ডে যন্ত্রণা বা স্টিফনেসের মতো লক্ষণের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে।
টাইট ব্রা : ঠিক সাইজের ব্রা না পরলে নার্ভ ড্যামেজ, শরীরের গঠন বিগড়ে যাওয়া, ঘাড়ে মারাত্মক যন্ত্রণা, কাঁধ এবং পিঠে ব্যথা, শ্বাস কষ্ট এবং ব্রেস্টের সৌন্দর্য কমে যাওয়ার মতো একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সঠিক সাইজের ইনার ওয়্যার কেনাটাও জরুরি।
শেপ ওয়্যার : শেপ ওয়ার পরিধান করাও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আপনি যখন এই ধরনের পোশাক পরিধান করেন, তখন এটি আপনার অঙ্গগুলিকে চেপে রাখে। এর পরবর্তীতে নানা সমস্যা হতে পারে। আবার আপনি যদি খুব ঘন ঘন কিংবা দীর্ঘ সময়ের জন্য শেপ ওয়্যার পরে থাকেন, তাহলে স্নায়ুর মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়। কাজেই শরীরের সুস্থতায় এ ধরনের পোশাকও এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad