কৌশিকী অমাবস্যা কি??জেনে নিন তারাপীঠ কাহিনী - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 9 September 2018

কৌশিকী অমাবস্যা কি??জেনে নিন তারাপীঠ কাহিনী



নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মা তারার অপর নাম কৌশিকী। পুরাণ মতে, কৌশিকী রূপেই শুম্ভ নিশুম্ভকে বধ করেছিলেন মাতারা। কথিত আছে, এই তিথিতেই তারাপীঠের মহাশ্মশানের শ্বেতশিমূল গাছের তলায় সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সাধক বামাক্ষ্যাপা। সেই বিশ্বাসেই কৌশিকী অমাবস্যাতে লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর ভিড় হয় তারাপীঠে।
কৌশিকী অমাবস্যা অন্য সমস্ত অমাবস্যার থেকে একটু আলাদা। কারণ তন্ত্রমতে ও শাস্ত্রমতে ভাদ্র মাসের এই তিথিটি একটু বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ৷ কারন অনেক কঠিন ও গুহ্য সাধনায় এই দিনে আশাতীত ফল মেলে৷ এই দিন সাধকরা কুন্ডলিনী চক্রকে জয় করে৷ বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রে এই দিনের এক বিশেষ মাহাত্ম্য আছে, তন্ত্রমতে এই রাতকে তারারাত্রি বলা হয়৷ এই রাতের একটি বিশেষ মুহুর্তে স্বর্গ ও নরকের মাঝের দুয়ার উন্মুক্ত হয়, সেই সময় সাধক নিজের ইচ্ছামতো ধ্বনাত্মক অথবা ঋণাত্মক শক্তি নিজের সাধনার মধ্যে আত্মস্থ করে ও সিদ্ধি লাভ করে।
মা কৌশিকীর জন্মেরও একটা ইতিহাস রয়েছে৷ মহাসরস্বতীদেবীর কাহিনীতে বলা আছে, পুরাকালে একবার শুম্ভ ও নিশুম্ভ কঠিন সাধনা করে ব্রহ্মাকে তুষ্ট করে৷ চতুরানন তাদের বর প্রদান করেন যে, কোনো পুরুষ তাদের বধ করতে পারবে না ৷ শুধুমাত্র কোনও অ-যোনি সম্ভূত নারী তাদের বধ করতে পারবে অর্থাৎ এমন এক নারী যে কোনো মাতৃগর্ভ থেকে উৎপন্ন হয়নি৷ তার হাতেই এই দুই অসুর ভাইয়ের মৃত্যু হবে৷
পৃথিবীতে এমন নারী কোথায়? এমনকি আদ্যাশক্তি মহামায়াও মেনকা রানির গর্ভে জন্ম নিয়েছেন৷ তাই তিনিও ওদের নাশ করতে পারবেন না৷ তবে কি উপায়?
পূর্বজন্মে পার্বতী যখন সতী রূপে দক্ষযজ্ঞস্থলে আত্মাহুতি দেন, তখন এই জন্মে তাঁর গাত্র বর্ণ কালো মেঘের মতো হয়৷ তাই ভোলানাথ আদর করে তাঁকে কালিকা বলে ডাকতেন।
একদিন দানব ভাইদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে দেবতারা যখন ক্লান্ত হয়ে কৈলাশে আশ্রয় নিলেন, শিব তখন সব দেবতাদের সামনেই পার্বতীকে বললেন “কালিকা, তুমি ওদের উদ্ধার করো৷” সবার সামনে কালী ব'লে ডাকাতে দেবী পার্বতী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, অপমানিত ও ক্রোধিত মনে মানস সরোবেরের ধারে কঠিন তপস্যা করলেন৷ তপস্যা শেষে শীতল মানস সরোবরের জলে স্নান করে নিজের দেহের সব কালো কোষিকা পরিত্যাগ করলেন৷ এরপর পার্বতীর গাত্রবর্ণ হল পূর্ণিমার চাঁদের মতো৷
ওই কালো কোষিকাগুলি থেকে এক অপূর্ব সুন্দর কৃষ্ণবর্ণ দেবীর সৃষ্টি হয়, ইনিই দেবী কৌশিকী। এই দেবীই শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেন। তারপর থেকেই এই অমাবস্যার নাম হয় কৌশিকী অমাবস্যা।
আবার দশ মহাবিদ্যার অন্যতম দেবী তারা আজকের দিনে মর্ত‍্যধামে আবির্ভূত হন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad