অর্ক রায় ,মালদা : অবশেষে কংগ্রেসের দুর্গে উঠল তৃণমূলের বিজয় পতাকা। দীর্ঘদিন পর মালদা জেলা পরিষদের দখল নিল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার ভোটাভুটির মাধ্যমে মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসাবে নির্বাচিত হলেন গৌর চন্দ্র মন্ডল ,সহকারি সভাধিপতি চন্দনা সরকার। ৩৭ আসন বিশিষ্ট এই জেলা পরিষদে এবারে ২৯ টি আসনই ছিল তৃণমূলের দখলে, বিজেপির ৬টি এবং কংগ্রেসের দখলে ছিল ২টি আসন। ভোটাভুটিতে কংগ্রেসের ২ সদস্য তৃণমূলকে সমর্থন করায় তৃণমূলের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১ টি।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও এবারে মালদা জেলা পরিষদের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। একাধিক নাম উঠে আসায়, সভাধিপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রাজ্য থেকে। শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হন মানিকচকের বিজয়ী প্রার্থী গৌর চন্দ্র মন্ডল। এবারে আদিবাসী এলাকা থেকে জয়ী, প্রাক্তন সভাধিপতি সরলা মুর্মুকে সরিয়ে গৌর চন্দ্র মন্ডলকে সভাধিপতি করায় ইতিমধ্যে তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের চোরা স্রোত বইতে শুরু করেছে। আসরে নেমে পড়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও।
সভাধিপতি হিসেবে গৌড় মন্ডলের নির্বাচনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করেছে বিজেপি, বিজেপির জেলা সভাপতি সনজিৎ মিশ্রের বক্তব্য,"মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী দীপ্ত কন্ঠে ঘোষণা করেছিলেন মালদা জেলায় আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্য আমরা আদিবাসী সমাজ থেকে এই এবারে নেতৃত্বে নিয়ে আসবো আমরা কাউকে। কিন্তু দেখলাম পর্বতের মূষিক প্রসব হয়েছে, গৌড় মন্ডল, যে জালিয়াতি করে পুরভোট প্রক্রিয়াকে কব্জা করে যিনি ভোটে জিতেছেন যার নির্বাচনকে আমরা ইতিমধ্যেই আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছি, তৃণমূল তাকেই সভাধিপতি করেছেন। এখানে প্রচুর টাকার খেলা হয়েছে আগামী দিনে মানুষ তা জানতে পারবেন। উন্নয়নের কথা তৃণমূলের মুখে একেবারেই শোভা পায় না, কারণ ওরা উন্নয়নের জন্য নয় টাকা কামানোর জন্যই রাজনীতি করছেন। যেখানে যে বেশি টাকা দেবেন তাকে এই দলের নেতারা নেতা বানিয়ে দেবেন। ফেলো, করি মাখো তেল, কেউ বলছে তিন কোটি ,কেউ বলছে পাঁচ কোটি, আসলে কি হয়েছে সেটা নিশ্চয়ই আগামী দিনে মানুষ জানতে পারবেন। আদিবাসী মহিলাকে যে সভাধিপতি করা হবে না তা আমরা জানতাম। আমাদের একজন আদিবাসী রয়েছে তাকেই আমরা বিরোধী করে পাঠিয়েছি ।আদিবাসীরা এখন আমাদের সঙ্গেই আছেন।"
মালদা জেলা বামফ্রন্টের জেলা সম্পাদক অমর মিত্রের প্রতিক্রিয়া ছিল,"আমাদের পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে প্রতিক্রিয়া রয়েছে ১০০% বিরোধী শূন্য পঞ্চায়েত গঠন করা এবং যে করবে তাকে কোটি কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা। এই সমস্ত ঘোষণা করে গোটা পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। ভোট গণনার কাছে দাঁড়াতে না দেওয়া, মানুষ যাতে ভোট না দিতে পারে এমনকি গণনা কেন্দ্রেও লুটপাটের মধ্যে দিয়ে আজ জেলা পরিষদের দখল নিতে পেরেছে তৃণমূল। এই জেলা পরিষদ কে ঘিরে মানুষের কোন আগ্রহ থাকবে না এবং যারা জিতেছেন তারা নিজেরাও জানেন তারা কিভাবে জিতেছেন। এবার এ ব্যাপারে আগামী দিনে সুস্থ এবং স্বাভাবিক ভাবে মানুষ যাতে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, অবাধ নির্বাচন সম্ভব হয় তার জন্য প্রতিবাদ এবং আন্দোলনে মানুষকে এগিয়ে আসতে আমরা এগিয়ে আসতে বলব।"
এই সমস্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে মালদা জেলা পরিষদের সদ্য নির্বাচিত সভাধিপতি গৌর চন্দ্র মণ্ডলের বক্তব্য,"মানুষের অভিযোগের শেষ নেই, আর আইন-কানুনের ব্যাপারে সমস্তটাই দেখবে প্রশাসন। আর আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, কিছু উন্নয়ন করতে না পারলেও বিজেপি ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে রাজনীতি করছে। আমাদের দল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমরা মানুষের উন্নয়ন করছি । অতএব আমরা সব সময় মানুষের উন্নয়ন করবো আর ওরা ধর্মের রাজনীতি করতে থাকবে।"
এ দিনের সভার শেষে মালদার জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য্য জেলার সভাপতি হিসাবে গৌর চন্দ্র মন্ডল এবং সহ-সভাপতি হিসেবে চন্দনা সরকারের নাম ঘোষণা করতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা।
তবে যেভাবে একজন আদিবাসী কে বঞ্চনার অভিযোগ, সদ্য নির্বাচিত সভাপতির বিরুদ্ধে কারচুপি করে নির্বাচনে জেতার অভিযোগে আদালতে মামলা, প্রচুর অর্থের বিনিময়ে সভাধিপতি হওয়ার মতো অভিযোগ শুরুতেই আস্তে শুরু করেছে। এবং তৃণমূলের সদস্যদের মধ্যে একটা চাপা ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে তাতে আগামী দিনে নবনির্বাচিত সভাধিপতি চলার পথ যে খুব একটা মসৃণ থাকবে না এমনটাই মনে করছেন জেলার রাজনৈতিক মহল।

No comments:
Post a Comment