চাঁদনী, পূর্ব মেদিনীপুর :চরম অমানবিক আচরণ দেখাল পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি থানার পুলিশ। রবিবার গাড়ি দুর্ঘটনার জেরে পথ অবরোধে আটকে পড়ার দরুন পুলিশ কনস্টেবলের পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে ১০ মিনিট দেরী হয় যুবকের।
এর জেরে সঞ্জয় কুমার মন্ডল নামের ওই পরীক্ষার্থীকে হলে ঢুকতেই দিল না কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। যুবকটি ছুটে এসে কাঁথি থানার সহযোগিতা চাইলেও থানায় ওপর তলায় যোগাযোগ করুন জানিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার ও কর্মীরা মুখ ফিরিয়ে নেন, এমনই অভিযোগ ওই যুবকের।
এর জেরে বয়সের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে পুলিশ কনস্টেবলের পরীক্ষার শেষ সুযোগটি হাতছাড়া করল পটাশপুরের সালেমাবাঁধ এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয়। এই ঘটনার জেরে কাঁথি থানার সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন যুবকটি।
সঞ্জয় জানিয়েছে, পটাশপুরের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার একটি বেসরকারী সংস্থায় কাজ করে সে। সেখান থেকেই পুলিশ কনস্টেবলের পরীক্ষার জন্য ফর্ম ফিলাপ করেছিল যুবকটি।
রবিবার কাঁথি ব্রাহ্ম গার্লস হাইস্কুলে তাঁর পরীক্ষার আসন পড়ে। সেই মতোই খুব সকালে কলকাতা থেকে কাঁথি গামী একটি বাসে ওঠে সঞ্জয়। কিন্তু সকাল ১০টা নাগাদ নন্দকুমার দিঘা ১১৬বি জাতীয় সড়কের বাজকুলের কাছে একটি পথ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাস্তা অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই অবরোধেই আটকে যায় সঞ্জয়ের বাসটি।
দীর্ঘক্ষণ পর অবরোধ উঠলে পরীক্ষা কেন্দ্রে সঞ্জয়ের পৌঁছাতে মাত্র ১০ মিনিট দেরী হয়ে যায় বলে দাবী তাঁর। কিন্তু অমানবিক পুলিশ ও পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা এই সমস্যায় কোনও সহযোগিতা করেনি, উল্টে তাঁর শেষ সুযোগটিকেও নষ্ট করে দেয়।
তবে এই ঘটনায় পুলিশের তরফ থেকে এখনও কোনও বক্তব্য জানা যায়নি। রাস্তা অবরোধের জেরে আটকে যাওয়া পরীক্ষার্থীর জন্য এইটুকু মানবিকতা দেখানো গেল না কেন তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষেরা।
এই ঘটনায় পুলিশের অমানবিক চেহারা আরও একবার ফুটে উঠল জনসমক্ষে। রাজ্য সরকার থেকে জেলা পুলিশ মুখে যতই পুলিশের জনদরদী চেহারা তুলে ধরুন না কেন, এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল পুলিশের অমানবিকতার ছবি।

No comments:
Post a Comment