নিজস্ব প্রতিনিধি :পুজোর মুখেই খুশিতে ঝলমল মালবাজার মহকুমার কুমলাই চা বাগানের শ্রমিক পরিবার । প্রায় তিন বছর বাদে খুলে গেল ডুয়ার্সের কুমলাই চা বাগান। অন্ধকারের অনিশ্চিত থেকে স্বস্তিতে ফিরল চা বাগানের প্রায় ১২০০ শ্রমিক। গত ২০১৫ সালে পুজোর মুখে বোনাস নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল শ্রমিক সংগঠনগুলির সাথে মালিকপক্ষের।সেই টানাপোড়নের মাঝে ১৫ অক্টোবর রাতে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা কোন রকম নোটিশ না দিয়ে চা বাগান ছেড়ে চলে যায় । সরকারি সাহায্য ও ১০০ দিনের কাজের মধ্য দিয়ে কোনক্রমে শ্রমিকরা দিন যাপন করতে থাকে।বাগানের স্বাস্থ্য সহ অন্যান্য পরিসেবা বেহাল হয়ে যায়। অবশেষে কালা দিনের অবসান হয়।এস এস এন্ডাভোরাস প্রাইভেট লিমিটেড নামের এক সংস্থা গত ১৮ সেপ্টেম্বর শিলিগুড়ির যুগ্ম শ্রম আধিকারিকের দপ্তরে এক বৈঠকের পর বাগান চালাতে সন্মত হয়।সেইমতো বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা নাগাদ নবাগত সংস্থার এমডি অমিত অগ্রওযাল চাবাগানের কারখানা গেটের সামনে ফিতা কেটে বন্ধ চাবাগান কে চালু করেন।শ্রমিকরা অবশ্য সকাল থেকে পাতা তোলার কাজ শুরু করে দেয়।পাতা তুলে দুপুর ১টার মধ্যে কারখানা গেটের সামনে চলে আসে। ইতিমধ্যে মালিক অমিত অগ্রয়াল ও কোম্পানির লোকজন চলে আসে । শ্রমিকরা ধামসা মাদল বাজিয়ে মালিককে অর্ভথনা করে। তারপর মালিক অমিতবাবু ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাগান খুলে দেন। বাগান খোলার পর অমিতবাবু বলেন,একসময় এই চাবাগান ডুয়ার্সের সেরা বাগানের শিরোপা পেয়েছিল। আমাদের চেষ্টা থাকবে সেই সুদিন ফিরিয়ে আনার। তিন বছর কারখানা বন্ধ ছিল।২৪ কোটি টাকা ঋন রয়েছে। ৬ মাস বাদে এসে দেখবেন কি পরিবর্তন হয়েছে। শ্রমিক বন্ধুদের সহযোগিতায় সব কাজ করব।
এদিন বাগান খোলার এই আনুষ্ঠানিক কাজে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ।বৃহস্পতিবার ছিল করম পুজার পবিত্র দিন।আদিবাসি শ্রমিকেরা করম পুজোর উপহার হিসেবে এই বাগান খুলেছে বলে জানান।
অন্য দিকে বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের জন্য খাবারের ব্যাবস্থাও করা হয়। ছিল মিষ্টি মুখের পালাও ।

No comments:
Post a Comment