গঙ্গার আগ্রাসন থেকে শৈশব শিক্ষা বাঁচাতে নজিরবিহীন উদ্যোগ বিদ্যালয় সংসদ সভাপতির - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 13 September 2018

গঙ্গার আগ্রাসন থেকে শৈশব শিক্ষা বাঁচাতে নজিরবিহীন উদ্যোগ বিদ্যালয় সংসদ সভাপতির


অর্ক রায়, মালদা: প্রতিবছরই মালদায় নদীভাঙনে বিপর্যস্ত হন বহু মানুষ। বিপন্ন হয় তাদের জীবন জীবিকা। এমনকি তাদের বসবাসের শেষ সম্বল টুকু কেড়ে নেয় এই ভয়ঙ্কর ভাঙ্গন ।এ বছরও মালদার রতুয়া বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে গঙ্গা নদীর আগ্রাসী ভাঙন। প্রতিদিনই হারিয়ে যাচ্ছে বহু মানুষের কৃষি জমি, ভিটেমাটি। ভাঙন ছুঁয়েছে রতুয়া ব্লকের নিউ বিলাইমারি চক্রের জঞ্জাল টোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেও, ইতিমধ্যেই বিদ্যালয় ভবনের অনেকটা অংশ তলিয়ে গেছে নদীগর্ভে। মূলত গরীব, শ্রমিক আর কৃষিজীবী মানুষের বাস এই এলাকাগুলিতে। অশিক্ষা আর কুসংস্কার থেকে বের করে এলাকার শিশুদের কাছে জ্ঞানের আলো পৌঁছে দিতে প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকায় কয়েক বছর আগেই সরকারি উদ্যোগে স্থাপিত হয়েছিল এই প্রাথমিক বিদ্যালয়। এলাকার শিশুদের এক মাত্র প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যা আজ ভাঙনে বিপন্ন। ছাত্র-ছাত্রীদের ভালোবাসার এই বিদ্যালয় কে বাঁচাতে কয়েকদিন আগেই বিদ্যালয়ে শিশুরা তাদের শিক্ষকদের সাথে নিয়ে হাজির হয়েছিল মালদা জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সভাপতি আশিস্ কুন্ডুর কাছে। এই সমস্ত ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের আর্তি ছিল বাঁচাতে হবে তাদের অতি প্রিয় আর ভালোবাসার স্কুল কে, তারা পড়তে চায়। শিশুদের এই কাতর আর্তি আর আবেগ দেখে স্থির থাকতে পারেননি সংসদ সভাপতি। কথা দিয়েছিলেন ,পাশে থাকবেন। তাই শিশুদের ডাকে সাড়া দিয়েই শিক্ষা কেন্দ্র বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। জানান, প্রতি বছরই ভাঙনে মালদার বহু এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। নদীর আগ্রাসী ভাঙ্গনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বহু মানুষের জীবন জীবিকার স্বাভাবিক ছন্দ। সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হলেও তা থাকে অত্যন্ত অপ্রতুল। কিন্তু এক্ষেত্রে এই শিশু শিক্ষা কেন্দ্র টিকে আমাদের বাঁচাতেই হবে।
আর এই শিশু শিক্ষা আর তাদের স্বার্থ রক্ষা করতেই ছোট্ট একটা স্পিডবোট কে সম্বল করেই বিপদজনক ভয়ঙ্করী গঙ্গার , ফুলহার নদীর মধ্যে দিয়ে পাড়ি দেন সভাপতি। উদ্দেশ্য, সেই সমস্ত শিশুদের কাছে পৌঁছানো। আর অবশ্যই তাদের ভালবাসার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাঁচানো। সংসদ সভাপতির এই শিক্ষা বাঁচাও অভিযানে শামিল হয়েছিলাম আমরাও।


উদ্যোগ যখন মহান, শিশু শিক্ষা আরে শিশু স্বার্থ রক্ষা করতে সংসদ সভাপতির এই অভিযানে নিজেদেরকে দূরে রাখতে পারেননি মালদার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার তারাও সামিল ছিলেন এই অভিযানে। অশান্ত দুর্গম নদী পেরিয়ে শিশুদের সঙ্গে কথা বলা, ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে গোটা এলাকা খতিয়ে দেখা এবং ভাঙনে স্কুল ভবনটি তলিয়ে গেলে তা পুন নির্মাণের জন্য স্থান নির্বাচন। সমস্তটাই করা হয় এদিন। মালদার জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য জানান "এই স্কুলটিকে বাঁচাতে সমস্ত ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভাঙনে তলিয়ে গেলে কোথায় এই স্কুলটি আবার তৈরী করে দেয়া হবে সেই জায়গা ও চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি আমরা। গোটা এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে দুর্গত মানুষদের সাহায্য । প্রশাসন সর্বতোভাবে সাহায্য করবে।"
জেলার পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ বলেন,"রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন কোনো প্রশাসনিক বৈঠক করেন, তখন তিনি সমস্ত দপ্তর এবং আধিকারিকদের সাথে নিয়ে সমস্যা মেটানো বা উন্নয়নের চেষ্টা করেন। সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়ে আজ স্কুল বাঁচাতে আমাদের এই অভিযান।"
জীবন বিপন্ন করে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে সংসদ সভাপতি জানান, বিদ্যালয় এর একটা বড় অংশ ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে চলে গেছে। বাকি অংশ ও অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে রয়েছে। যেকোনো অবস্থাতেই এই বিদ্যালয়টি কি আমাদের রক্ষা করতে হবে ।প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। পুরো ঘটনা ইতিমধ্যেই শিক্ষা দপ্তরের জানানো হয়েছে সেখান থেকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশ এসেছে।"গঙ্গার তীরে প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকায় জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালাতে শুরু হওয়া এই বিদ্যালয়ের কে কোন অবস্থাতেই বন্ধ হতে দেওয়া যাবে না এই ছিল মালদা জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি আশিস্ কুন্ডুর শপথ।
প্রতিবছরই মালদায় নদীর ভয়াবহ ভাঙনে যখন বহু মানুষ গৃহহীন হন। হারিয়ে যায় কৃষিজমি, মানুষের জীবন-জীবিকা তখন একটি দুর্গম এলাকায় সরকারি স্কুল কে বাঁচাতে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতির এই উদ্যোগ, যে আগামীতে মালদার প্রত্যন্ত এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা কে এগিয়ে নিয়ে যেতে আরো বেশি করে সাহায্য করবে এ কথা বোধ হয় বলার অপেক্ষা রাখে না।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad